Cherreads

Chapter 1 - Chapter One — Money

পেটে কিছু নেই দুদিন।

প্রথম দিন ক্ষুধাটা তীক্ষ্ণ ছিল, ছুরির মতো। দ্বিতীয় দিন সেটা একটা ভোঁতা ব্যথায় বদলে গেছে, শরীরের কোথাও একটা স্থির জায়গায় বসে আছে — পেটে না, মাথায়।

Rudo বাজারের পেছনের গলিতে বসে ছিল। এখানে সবজির খোসা আর পচা ফলের গন্ধ আসে সারাদিন। কেউ এখানে বসে না — গন্ধের জন্য। এই গন্ধটার একটা সুবিধা আছে: কেউ এদিকে তাকায় না।

সকালে এক মহিলা সবজি কাটার সময় কিছু খোসা আর বাদ দেওয়া অংশ ফেলে দিয়েছিল এক কোণে। লাউয়ের খোসা, পেঁপের বীজ, একটা আধপচা টমেটো। Rudo টমেটোটা তুলে নিল। বাকিটা ছেড়ে দিল।

টমেটোটা তেতো লাগল। পেট কিছুটা শান্ত হলো।

কাজ খুঁজেছিল প্রথম তিনদিন। বাজারে মাল তোলা-নামানোর কাজ — একজন লোক দেখে বলেছিল, "তোমাকে চিনি না। কাগজ আছে?" তার কাছে কোনো কাগজ নেই। জন্ম সনদ নেই, পরিচয়পত্র নেই। কোথা থেকে এসেছে সেটাও স্পষ্ট না তার নিজের কাছে।

রিকশা স্ট্যান্ডে একজন বলেছিল কাজ আছে যদি ভাড়া করার টাকা থাকে। নেই।

চায়ের দোকানে বাসন ধোয়ার কাজের কথা বলেছিল। দোকানদার তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, "তোর হাত কাঁপে নাকি?" হাত কাঁপছিল না। তবু রাখেনি।

আজ খোঁজা বন্ধ করেছে। বসে আছে। দেখছে।

কিন্তু দেখাটা অকারণে না।

পেটে কিছু না থাকলে মাথা দুই রকম হয়। কিছু মানুষের মাথা ধীর হয়ে যায়, ঝিমিয়ে আসে। Rudo-র উল্টোটা হয় — মাথা পরিষ্কার হয়ে যায়, যেন অপ্রয়োজনীয় চিন্তাগুলো ক্ষুধার চাপে ঝরে পড়ে আর যেটা থাকে সেটা শুধু হিসাব।

আর হিসাবটা সহজ: তার কাছে কিছু নেই। শ্রম বিক্রি করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে — কারণ পরিচয় নেই, বিশ্বাস নেই, সময় নেই কারো তাকে যাচাই করার।

তাহলে অন্য কিছু বিক্রি করতে হবে। এমন কিছু যেটা শ্রম না, বিশ্বাস।

গলির মুখে একটা পুরনো ফ্রেমের দোকান ছিল — ভাঙাচোরা ফ্রেম, পুরনো ছবি, কিছু আসল কিছু নকল পেইন্টিং স্তূপ করে রাখা। দোকানদার দুপুরে ঘুমাচ্ছিল চেয়ারে হেলান দিয়ে।

Rudo স্তূপের মধ্যে একটা ছবি দেখল — মাঝারি সাইজ, পুরনো ফ্রেমে বাঁধা, একটা নদীর দৃশ্য, রং খানিকটা ফিকে হয়ে গেছে সময়ের সাথে। সাধারণ কাজ। কিন্তু ফ্রেমটা পুরনো কাঠের, হাতে কোঁদা নকশা আছে কোণে।

দোকানদার জেগে উঠলে Rudo জিজ্ঞেস করল, "এটা কত?"

দোকানদার চোখ কুঁচকে তাকাল। "কোনটা?"

"এই নদীর ছবিটা।"

লোকটা একটু দেখল ছবিটা, তারপর তার দিকে দেখল — ছেঁড়া জামা, ধুলোমাখা পা। "তুই কিনবি? পঁচিশ টাকা।"

Rudo-র কাছে পঁচিশ টাকা নেই। তার কাছে কিছুই নেই।

"কুড়ি দেব। এখন না, কালকে।"

দোকানদার হাসল, বিরক্তির হাসি। "টাকা নাই তো কথা কইস ক্যান।"

Rudo চলে গেল। কিন্তু ছবিটার ফ্রেমের কোঁদা নকশাটা মাথায় রয়ে গেল।

বিকেলে বাজারের একটা কোণে আলু বোঝাই ট্রাক থেকে মাল নামাতে লোক কম পড়েছিল। মহাজনের লোক ডাকল, "চল, দুই ঘণ্টা, পঞ্চাশ টাকা।"

Rudo রাজি হলো।

বস্তা তোলা ভারী কাজ ছিল না শারীরিকভাবে, কিন্তু একটানা দুই ঘণ্টা — পিঠ ব্যথা করল, হাতের তালু ছিলে গেল। কেউ খেয়াল করল না।

কাজ শেষে পঞ্চাশ টাকা হাতে এলো। দশ দিনে প্রথম টাকা।

খাবার কেনার ইচ্ছা হলো — খুব করে। কিন্তু সে কেনাকাটা না করে সরাসরি ফ্রেমের দোকানে ফিরে গেল।

"পঁচিশ টাকা।"

দোকানদার একটু অবাক হলো, তারপর টাকাটা নিয়ে ছবিটা দিয়ে দিল।

হাতে রইল পঁচিশ টাকা আর একটা পুরনো নদীর ছবি।

সেই রাতে পেট খালি ছিল। কিন্তু সে এটার জন্য চিন্তিত না।

পরের দিন সকালে সে শহরের অন্য প্রান্তে গেল — হেঁটে, প্রায় এক ঘণ্টা। সেখানে একটা এলাকা আছে যেখানে বড় বাড়ি, গাড়ি, এবং দরজায় দারোয়ান। এই এলাকায় একটা ছোট পুরনো জিনিসের দোকান আছে — অ্যান্টিক বলে বিক্রি করে, পুরনো আসবাব, পুরনো বাসন, পুরনো ছবি।

দোকানে ঢোকার আগে Rudo রাস্তার ধারে বসে ছবিটা পরিষ্কার করল — হাতের কাপড়ে ফ্রেমের ধুলো মুছল, কাচের উপর হাতের ছাপ সরাল। তারপর ভেতরে গেল।

দোকানদার এই দোকানের, আগের দোকানদারের মতো না — চশমা পরা, কথা কম বলে।

"এটা কোথায় পেলে?" দোকানদার ছবিটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল।

"আমার নানার বাড়িতে ছিল। বিক্রি করতে বলেছেন।"

মিথ্যা কথাটা সহজে এলো। কারণ-ফলাফল হিসাব করে বলা — দোকানদার "কোথায় পেলে" জিজ্ঞেস করলে একটা উত্তর দরকার যেটা বিশ্বাসযোগ্য এবং যাচাই করা কঠিন।

দোকানদার ফ্রেমটা ঘুরিয়ে দেখল, কোঁদা নকশাটা আঙুল দিয়ে স্পর্শ করল। "এই কাজ পুরনো। কে এঁকেছে জানো?"

"না। নানা বলতে পারতেন, কিন্তু..." Rudo থামল। বাকিটা না বলাই ভালো — অসমাপ্ত বাক্য বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়, পুরো গল্প বলার চেয়ে।

দোকানদার কিছুক্ষণ ছবিটা দেখল। তারপর বলল, "একশো টাকা দেব।"

Rudo মাথা নাড়াল না, হ্যাঁ-ও বলল না। দাঁড়িয়ে রইল।

"একশো পঞ্চাশ।"

এখনও দাঁড়িয়ে।

দোকানদার বিরক্ত হলো একটু। "দুইশো। এর বেশি না।"

Rudo মাথা নাড়াল।

পঁচিশ টাকায় কেনা ছবি, দুইশো টাকায় বিক্রি। লাভ একশো পঁচাত্তর টাকা — একদিনের আলু বোঝার মজুরির সাড়ে তিনগুণের বেশি।

দোকান থেকে বেরিয়ে সে হিসাব করল। দুইশো পঁচিশ টাকা এখন তার কাছে। দশ দিন আগে কিছু ছিল না। আজ এটা আছে।

কিন্তু এই হিসাবটা একবারের জন্য কাজ করে। দ্বিতীয়বার একই কাজ করতে আরেকটা পুরনো ফ্রেমের ছবি লাগবে, আরেকটা বিশ্বাসী ক্রেতা লাগবে। এটা পুনরাবৃত্তিযোগ্য না।

তার দরকার এমন কিছু যেটা বারবার করা যায়।

হাঁটতে হাঁটতে সেই ধনী এলাকার গলিগুলো দেখছিল। বড় বাড়ির সামনে কুকুর পোষা মানুষ অনেক। একটা বাড়ির গেটে একটা নোটিস দেখল — হাতে লেখা, সাঁটানো কাগজ: "আমাদের পোষা বিড়াল হারিয়ে গেছে। সাদা-কালো। খুঁজে দিলে পুরস্কার।"

Rudo এটার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়াল।

একটা ধারণা মাথায় এলো — সরাসরি না, ধীরে ধীরে, একটা একটা টুকরো জোড়া লাগার মতো।

মানুষ পোষা প্রাণী হারালে কষ্ট পায়। কষ্ট পেলে টাকা খরচ করতে রাজি হয়। কিন্তু কষ্টটা আসল হতে হবে না — বিশ্বাসটা আসল হলেই হয়।

এই এলাকায় মানুষের টাকা আছে, এবং বিশ্বাস করার প্রবণতা আছে — কারণ তারা ভাবে না কেউ তাদের ঠকাবে এই এলাকায় এসে। নিরাপত্তা একটা অন্ধত্ব তৈরি করে।

পরের দুদিন সে রাস্তার কুকুর দেখে বেড়াল। বাজারের আশেপাশে অনেক আছে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষতবিক্ষত বা খুব রুগ্ণ — সেগুলো কাজ করবে না, কারণ "হারিয়ে যাওয়া পোষা কুকুর" দেখতে স্বাস্থ্যবান হতে হবে।

তিন নম্বর দিনে একটা কুকুর পেল — মাঝারি সাইজ, বাদামি-সাদা রং, সুস্থ দেখতে, শুধু ময়লা গায়ে। লোকজনের প্রতি ভয় নেই খুব একটা, কাছে গেলে পালায় না।

সে কুকুরটাকে খাবার দিয়ে কয়েকদিন ধরে কাছে টানল। তারপর পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে গোসল করাল — সাবান ছিল না, শুধু পানি আর হাত দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা। কুকুরটা পরিষ্কার হওয়ার পর দেখতে আলাদা লাগল — গায়ের রং উজ্জ্বল, লোম পরিষ্কার।

একটা পুরনো দড়ি জোগাড় করে গলায় বাঁধল। এখন দেখতে একটা "পোষা" কুকুরের মতো লাগছে, রাস্তার কুকুরের মতো না।

দোকান থেকে এক টুকরো কাগজ আর কলম জোগাড় করল — পঁচিশ পয়সা দিয়ে। তারপর বাজারের এক ছোট দোকানে গিয়ে একটা ছবি তোলাল কুকুরটার, পাঁচ টাকা দিয়ে — দোকানে পুরনো ক্যামেরা আর প্রিন্ট করার ব্যবস্থা ছিল।

ছবি হাতে পেয়ে একটা পোস্টার বানাল, হাতে লিখে:

"আমাদের প্রিয় কুকুর 'বাদশা' হারিয়ে গেছে। ৩ দিন আগে। যদি কেউ খুঁজে পান, দয়া করে যোগাযোগ করুন। পুরস্কার: ৫০০ টাকা।"

নিচে একটা নাম্বার লিখল — যেটা আসলে কোনো ফোনের নাম্বার না, এলোমেলো সংখ্যা।

পোস্টারের কয়েকটা কপি বানাল হাতে লিখে, একই কথা।

ধনী এলাকায় গিয়ে কয়েকটা গাছে, দেয়ালে, বিদ্যুতের খুঁটিতে পোস্টার লাগাল। সাবধানে — যেন মনে হয় কোনো পরিবার সত্যিই কষ্টে আছে।

কুকুরটাকে সেই এলাকা থেকে দূরে, শহরের অন্য প্রান্তে নিয়ে রাখল — পরিচিত একটা ভাঙা দোকানের পেছনে, দড়ি বেঁধে।

তারপর অপেক্ষা।

তিন দিন অপেক্ষা করল। এই তিন দিনে আগের টাকা থেকে খরচ করল সামান্য — খাবার, কুকুরের খাবার। বাকি টাকা পকেটে রাখল।

চতুর্থ দিনে ধনী এলাকায় ফিরে গেল।

পোস্টার যেখানে লাগিয়েছিল সেখানে গিয়ে আশেপাশে ঘুরল, কান খোলা রেখে। একটা চায়ের দোকানের সামনে দুজন মানুষ কথা বলছিল।

"...ওই কুকুর হারানোর পোস্টারটা দেখছ? পাঁচশো টাকা পুরস্কার!"

"দেখছি। কিন্তু নাম্বারে ফোন দিলে কেউ ধরে না।"

Rudo এগিয়ে গেল, স্বাভাবিকভাবে। "ভাই, কোন কুকুরের কথা বলছেন?"

একজন লোক পোস্টারের দিকে আঙুল দেখাল, যেটা পাশের দেয়ালে লাগানো।

Rudo ছবিটা দেখল, মুখে একটু আগ্রহ এনে বলল, "আরে, আমি এই কুকুর দেখেছি! ওইদিকে, স্টেশনের কাছে।"

লোকটা চোখ বড় করল। "সত্যি? কোথায়?"

"আমার কাছে আছে এখন। নিয়ে আসছিলাম, ভাবলাম পুরস্কারটা পাব।" Rudo একটু থামল। "কিন্তু নাম্বারে ফোন দিচ্ছি, কেউ ধরে না।"

"আমিও তো দিলাম, ধরল না।"

দুজনেই হতাশ মুখ করে রইল কিছুক্ষণ।

তারপর Rudo বলল, ধীরে, যেন একটা সমস্যার সমাধান নিজেই বের করছে এই মুহূর্তে, "শোনেন, আমার টাকার দরকার। আপনি যদি কুকুরটা নিয়ে যান, আর মালিককে খুঁজে পান, পুরো পাঁচশো পাবেন আপনি। আমি এখন আংশিক নিয়ে নিই — দুইশো — আর কুকুরটা আপনাকে দিয়ে দিই।"

লোকটা একটু ভাবল। তার চোখে একটা হিসাব চলল — দুইশো দিয়ে যদি পাঁচশোর কুকুর পাওয়া যায়, লাভ তিনশো।

"দুইশো কেন? কম দিলেই তো হয়।"

"কারণ আমি জানি না মালিক কত দিন ধরে খুঁজছে, বা মালিকের নাম্বার আসলেই কাজ করে কিনা। ঝুঁকি আপনার। আমার তো নিশ্চিত টাকা লাগবে।" Rudo কাঁধ ঝাঁকাল। "না চাইলে থাক। আমি অন্য কাউকে বলব।"

এই শেষ লাইনটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল — তাড়া তৈরি করা।

লোকটা পকেট থেকে টাকা বের করল। "ঠিক আছে, দুইশো।"

বিনিময় হলো। কুকুর, দড়ি, আর একটা মিথ্যা গল্প — দুইশো টাকার বদলে।

লোকটা কুকুরটাকে নিয়ে খুশি মনে হাঁটা দিল, নাম্বারে আবার ফোন করার চেষ্টা করতে করতে।

Rudo বিপরীত দিকে হাঁটা দিল।

কোনো মালিক নেই। কোনো পাঁচশো টাকা পুরস্কার নেই। নাম্বারটা কখনও কারো ছিল না।

লোকটা একটা রাস্তার কুকুরের জন্য দুইশো টাকা দিয়েছে, এই বিশ্বাসে যে সে একটা সুযোগ নিচ্ছে, একটা ফাঁক ব্যবহার করছে, এবং লাভ করছে।

বিশ্বাসটাই পণ্য ছিল। কুকুরটা শুধু মাধ্যম।

সন্ধ্যায় Rudo বাজারে ফিরল, এবার পেট ভরে খেল — ভাত, মাছ, একটু ডাল। প্রথমবার দশ দিনে পুরো ভরপুর খাওয়া।

খাওয়ার সময় হিসাব করল: ছবি থেকে লাভ একশো পঁচাত্তর। কুকুর থেকে লাভ — দুইশো টাকা পেয়েছে, খরচ হয়েছে পোস্টার আর ছবির জন্য সাড়ে পাঁচ টাকা আর কুকুরের খাবারের জন্য আরও কিছু — মোট লাভ প্রায় একশো নব্বই।

দুটো মিলিয়ে প্রায় তিনশো পঁয়ষট্টি টাকা, হাতের শ্রমের পঞ্চাশ টাকা ছাড়াই।

এই হিসাবটা তার মাথায় স্থির হয়ে রইল একটা সংখ্যা হিসেবে না, একটা পদ্ধতি হিসেবে: মানুষ বিশ্বাস করে যখন প্রসঙ্গ বিশ্বাসযোগ্য লাগে। প্রসঙ্গ তৈরি করা যায়। তৈরি করা প্রসঙ্গ আসল প্রসঙ্গের মতোই কাজ করে, যদি কেউ যাচাই করার সুযোগ বা ইচ্ছা না পায়।

এটা শক্তি না। এটা পর্যবেক্ষণ, এবং পর্যবেক্ষণকে কাজে লাগানো।

খাওয়ার পর বাজারের একটা দোকানে গিয়ে একটা পুরনো জামা কিনল — নিজের ছেঁড়া জামার বদলে, সস্তা কিন্তু পরিষ্কার। পরিষ্কার জামা পরা মানুষকে মানুষ বেশি বিশ্বাস করে। এটাও একটা হিসাব।

রাতে ভাঙা বাড়িতে ফিরল। পকেটে এখন প্রায় তিনশো টাকা, প্রথমবারের মতো।

শোয়ার আগে হাতের তালুর ছিলে যাওয়া জায়গাটা দেখল — এখনও লাল, কিন্তু শুকাতে শুরু করেছে।

এই ব্যথাটা সত্যি ছিল। শ্রম দিয়ে কামানো পঞ্চাশ টাকাও সত্যি ছিল। কিন্তু সেই পঞ্চাশ টাকা তিনশোতে পরিণত হয়েছে শ্রম দিয়ে না — বোঝাপড়া দিয়ে।

দুটো রাস্তাই কাজ করে। কিন্তু একটা রাস্তা শরীর ক্ষয় করে, অন্যটা মাথা ব্যবহার করে।

সে চোখ বন্ধ করল। ছাদ-না-থাকা জায়গা দিয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছিল — তারা।

আগামীকাল আবার কিছু একটা করতে হবে। আজকের পদ্ধতি কাল কাজ করবে না — একই এলাকায় দুইবার একই কৌশল চালানো বিপজ্জনক। নতুন এলাকা, নতুন গল্প, নতুন প্রসঙ্গ লাগবে।

কিন্তু এটা তাকে চিন্তিত করল না। বরং একটা স্থির সিদ্ধান্ত হিসেবে মাথায় বসল: যতদিন প্রয়োজন, এটা চলবে। থামবে না।

ক্ষুধা তাকে থামাতে পারেনি। প্রত্যাখ্যান তাকে থামাতে পারেনি।

কিছুই থামাতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজে থামার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঘুমের মধ্যে কোনো স্বপ্ন এলো না প্রথম কয়েক ঘণ্টা। তারপর একটা অনুভূতি এলো — স্বপ্ন না, ঠিক জাগরণও না।

একটা চাপ, ভেতর থেকে, শব্দের মতো অনুভূত হয় কিন্তু শব্দ না।

তুমি ক্ষুধার্ত ছিলে। তুমি থামোনি। তুমি ঠকেছ, তুমি প্রত্যাখ্যাত হয়েছ। তুমি থামোনি। তুমি একটা পথ তৈরি করেছ যেখানে পথ ছিল না।

Rudo এই অনুভূতিতে কিছু বলল না — বলার মতো কেউ নেই। কিন্তু একটা প্রশ্ন নিজে থেকেই উঠল মাথায়: কে গুনছে এটা?

জবাব নেই। শুধু একটা ক্ষীণ নিশ্চয়তা যে আজকের প্রতিটা সিদ্ধান্ত — ছবি কেনা, কুকুর পরিষ্কার করা, পোস্টার লেখা, মিথ্যা বলা, লোভ তৈরি করা — সবকিছু কোথাও একটা গণনায় ঢুকে গেছে।

এই অনুভূতি কয়েক সেকেন্ড থাকল। তারপর চলে গেল।

Rudo ঘুমের মধ্যে একটু নড়ল। হাতের ছিলে যাওয়া জায়গাটা চেপে ধরল অজান্তেই।

বাইরে, অন্ধকারে, শহরটা ঘুমিয়ে ছিল।

More Chapters