গল্পের নাম: আমি হেরে গেছি
প্রথম পৃষ্ঠারাত তখন প্রায় দু'টা। শহরের আলো নিভে যায়নি, কিন্তু মানুষের ভেতরের আলো অনেক আগেই নিভে গেছে। জানালার পাশে বসে আরিয়ান খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল। খাতা খোলা, কলম হাতে—কিন্তু এক লাইনও লেখা হয়নি।
তার টেবিলে পড়ে ছিল অনেক অসমাপ্ত গল্প। প্রতিটা গল্পের শুরু আছে, শেষ নেই। ঠিক তার নিজের জীবনের মতো।
আরিয়ান ছোটবেলা থেকেই লিখতে চাইত। সবাই যখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখত, সে স্বপ্ন দেখত লেখক হওয়ার। কিন্তু স্বপ্নের দাম সবাই দেয় না।
বাবা বলতেন,
"লেখালেখি করে কেউ বাঁচে না।"
বন্ধুরা হাসত,
"তুই কি কবি হবি নাকি?"
একসময় সে লিখত লুকিয়ে। রাত জেগে। কান্না লুকিয়ে।
কিন্তু জীবন কখনো গল্পের মতো সুন্দর হয় না।
চাকরির জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে, নিজের স্বপ্নটা কোথায় হারিয়ে গেল—সে নিজেও জানে না।
আজ অনেকদিন পর সে আবার খাতা খুলেছে।
কিন্তু হাত কাঁপছে।
কারণ তার মনে হচ্ছে—
সে হেরে গেছে।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠাএকদিন তার লেখা একটা গল্প ম্যাগাজিনে পাঠিয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে। প্রতিদিন পোস্টম্যানের অপেক্ষা করত।
একদিন উত্তর এল।
খাম খুলতেই ছোট্ট একটা কাগজ—
"দুঃখিত, আপনার লেখা প্রকাশযোগ্য নয়।"
শব্দগুলো খুব ছোট ছিল, কিন্তু আঘাতটা ছিল বিশাল।
সেদিন প্রথমবার সে নিজের লেখাগুলো ছিঁড়ে ফেলেছিল।
মা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন,
"খেতে আয়।"
সে বলেছিল,
"ক্ষুধা নেই।"
আসলে তার ক্ষুধা ছিল—স্বীকৃতির।
তারপর ধীরে ধীরে সে লেখা বন্ধ করে দিল।
স্বপ্ন বন্ধ করে দিল।
নিজেকে বিশ্বাস করা বন্ধ করে দিল।
বন্ধুরা এগিয়ে গেল। কেউ বিদেশে, কেউ বড় চাকরিতে।
আরিয়ান শুধু ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রইল।
একদিন আয়নায় তাকিয়ে সে বুঝল—
সে বেঁচে আছে, কিন্তু ভেতরটা অনেক আগেই মারা গেছে।
তৃতীয় পৃষ্ঠাকয়েক বছর পর এক রাতে পুরোনো ড্রয়ার খুলতে গিয়ে সে তার পুরোনো খাতাটা পেল।
পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে।
একটা লাইনে লেখা ছিল—
"একদিন আমি এমন গল্প লিখব, যেটা পড়ে মানুষ কাঁদবে।"
লাইনটা পড়ে তার বুক হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
সে বুঝল, পৃথিবী তাকে হারায়নি।
সে নিজেই নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিল।
জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল।
হঠাৎ তার মনে হলো—
যারা সফল হয়েছে, তারা কখনো হারেনি বলে নয়; তারা হারার পরও আবার শুরু করেছিল।
আরিয়ান কলমটা হাতে নিল।
অনেকদিন পর প্রথম শব্দ লিখল—
"আমি হেরে গেছি।"
শব্দটা লিখতেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।
সে বুঝল, এই হারটাই তার সবচেয়ে সত্য গল্প।
চতুর্থ পৃষ্ঠাভোর হয়ে গেছে।
সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকছে। টেবিল ভর্তি কাগজ। রাতভর সে লিখেছে।
কেউ তাকে বলেনি লিখতে।
কেউ অপেক্ষা করছে না তার গল্পের জন্য।
তবুও সে লিখেছে।
কারণ আজ সে একটা জিনিস বুঝেছে—
জেতা মানে সবাইকে প্রমাণ করা নয়।
জেতা মানে নিজের ভেতরের মৃত মানুষটাকে আবার বাঁচানো।
হয়তো তার লেখা কেউ পড়বে না।
হয়তো কেউ প্রশংসা করবে না।
তবুও সে লিখবে।
কারণ সে হেরে গেছে মানুষের কাছে,
কিন্তু প্রথমবার জিতেছে নিজের কাছে।
শেষ লাইনে সে লিখল—
"আমি হেরে গেছি…
তাই আজ থেকে আমি সত্যিকারের লেখা শুরু করলাম।"
জানালার বাইরে নতুন সকাল।
আর ভেতরে জন্ম নিল এক নতুন লেখক।
শেষ।
যদি চাও, আমি পরের ধাপে তোমার জন্য এমন আরও painful লেখকের গল্প, বা লেখার আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো গল্প সিরিজ বানিয়ে দিতে পারি।
আমি হেরে গেছিYou're viewing user-generated content that may be unverified or unsafe.ReportWritingগল্পের নাম: আমি হেরে গেছি
প্রথম পৃষ্ঠারাত তখন প্রায় দু'টা। শহরের আলো নিভে যায়নি, কিন্তু মানুষের ভেতরের আলো অনেক আগেই নিভে গেছে। জানালার পাশে বসে আরিয়ান খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল। খাতা খোলা, কলম হাতে—কিন্তু এক লাইনও লেখা হয়নি।
তার টেবিলে পড়ে ছিল অনেক অসমাপ্ত গল্প। প্রতিটা গল্পের শুরু আছে, শেষ নেই। ঠিক তার নিজের জীবনের মতো।
আরিয়ান ছোটবেলা থেকেই লিখতে চাইত। সবাই যখন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখত, সে স্বপ্ন দেখত লেখক হওয়ার। কিন্তু স্বপ্নের দাম সবাই দেয় না।
বাবা বলতেন,
"লেখালেখি করে কেউ বাঁচে না।"
বন্ধুরা হাসত,
"তুই কি কবি হবি নাকি?"
একসময় সে লিখত লুকিয়ে। রাত জেগে। কান্না লুকিয়ে।
কিন্তু জীবন কখনো গল্পের মতো সুন্দর হয় না।
চাকরির জন্য দৌড়াতে দৌড়াতে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে করতে, নিজের স্বপ্নটা কোথায় হারিয়ে গেল—সে নিজেও জানে না।
আজ অনেকদিন পর সে আবার খাতা খুলেছে।
কিন্তু হাত কাঁপছে।
কারণ তার মনে হচ্ছে—
সে হেরে গেছে।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠাএকদিন তার লেখা একটা গল্প ম্যাগাজিনে পাঠিয়েছিল। অনেক আশা নিয়ে। প্রতিদিন পোস্টম্যানের অপেক্ষা করত।
একদিন উত্তর এল।
খাম খুলতেই ছোট্ট একটা কাগজ—
"দুঃখিত, আপনার লেখা প্রকাশযোগ্য নয়।"
শব্দগুলো খুব ছোট ছিল, কিন্তু আঘাতটা ছিল বিশাল।
সেদিন প্রথমবার সে নিজের লেখাগুলো ছিঁড়ে ফেলেছিল।
মা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন,
"খেতে আয়।"
সে বলেছিল,
"ক্ষুধা নেই।"
আসলে তার ক্ষুধা ছিল—স্বীকৃতির।
তারপর ধীরে ধীরে সে লেখা বন্ধ করে দিল।
স্বপ্ন বন্ধ করে দিল।
নিজেকে বিশ্বাস করা বন্ধ করে দিল।
বন্ধুরা এগিয়ে গেল। কেউ বিদেশে, কেউ বড় চাকরিতে।
আরিয়ান শুধু ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রইল।
একদিন আয়নায় তাকিয়ে সে বুঝল—
সে বেঁচে আছে, কিন্তু ভেতরটা অনেক আগেই মারা গেছে।
তৃতীয় পৃষ্ঠাকয়েক বছর পর এক রাতে পুরোনো ড্রয়ার খুলতে গিয়ে সে তার পুরোনো খাতাটা পেল।
পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে।
একটা লাইনে লেখা ছিল—
"একদিন আমি এমন গল্প লিখব, যেটা পড়ে মানুষ কাঁদবে।"
লাইনটা পড়ে তার বুক হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
সে বুঝল, পৃথিবী তাকে হারায়নি।
সে নিজেই নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিল।
জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছিল।
হঠাৎ তার মনে হলো—
যারা সফল হয়েছে, তারা কখনো হারেনি বলে নয়; তারা হারার পরও আবার শুরু করেছিল।
আরিয়ান কলমটা হাতে নিল।
অনেকদিন পর প্রথম শব্দ লিখল—
"আমি হেরে গেছি।"
শব্দটা লিখতেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।
সে বুঝল, এই হারটাই তার সবচেয়ে সত্য গল্প।
চতুর্থ পৃষ্ঠাভোর হয়ে গেছে।
সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকছে। টেবিল ভর্তি কাগজ। রাতভর সে লিখেছে।
কেউ তাকে বলেনি লিখতে।
কেউ অপেক্ষা করছে না তার গল্পের জন্য।
তবুও সে লিখেছে।
কারণ আজ সে একটা জিনিস বুঝেছে—
জেতা মানে সবাইকে প্রমাণ করা নয়।
জেতা মানে নিজের ভেতরের মৃত মানুষটাকে আবার বাঁচানো।
হয়তো তার লেখা কেউ পড়বে না।
হয়তো কেউ প্রশংসা করবে না।
তবুও সে লিখবে।
কারণ সে হেরে গেছে মানুষের কাছে,
কিন্তু প্রথমবার জিতেছে নিজের কাছে।
শেষ লাইনে সে লিখল—
"আমি হেরে গেছি…
তাই আজ থেকে আমি সত্যিকারের লেখা শুরু করলাম।"
জানালার বাইরে নতুন সকাল।
আর ভেতরে জন্ম নিল এক নতুন লেখক।
শেষ।
