Sumaiya sumu
এস এস সি এর রেজাল্ট কি ছিলো তোমার?
হিমেলের কথায় ভারি লজ্জা পায় মিহি, কি করে বলবে সে ভালো রেজাল্ট করেনি, আর এই ভালো ছাত্রের সামনে নাদানমার্কা রেজাল্ট বলে কি সম্মান খোয়াবে মিহি। তা কখনোই সম্ভব না। মিহির একটা আলাদায় কদর, এখন সবার সামনে ছোট হওয়া যাবে না আবার মাথায় কোনো রেজাল্টের সংখ্যাও আসছে না, কি ভারি জ্বালা হলো।
'আসলে আমার মনে নেই পয়েন্ট যেনো কতো ছিলো, আমি কাল দেখে আপনাকে জানাবো
পাশ থেকে একজন বলে উঠলো, 'পড়ার অনেক চাপ তো তাই হয়তো রেজাল্ট ভূলে গেছে
আহহঃ কি লজ্জা, মিহির তো লজ্জায় মাথা কেটে যাচ্ছে, মিহিকে নিয়ে এই প্রথম এরা ঠাট্টা করছে, অথচ সিনিয়রদের কিছু বলতেও পারছে না।
হয়েছে কি আজ বিকাল ৩টায় হিমেলদের ব্যাচের পড়া ছিলো, আর মিহির পড়া ছিলো সকালে কিন্তু মিহির অন্য একটা সাবজেক্ট পড়ার জন্য সকালে সময় হচ্ছিলো না তাই মিহি ঠিক করলো সে পারসোনালি বিকালে পড়বে কিন্তু ম্যামের অফ টাইম না থাকায় ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার ব্যাজের সাথে পড়া ঠিক করলো। তাই আজ বিকালে এসেছে পড়তে সিনিয়রদের সাথে, খেয়ে দেয়ে কাজ না থাকলে যা হয় তাই।
মিহি ৩মাস হলো ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। স্টুডেন্ট ভালো তবে ফাঁকিবাজি দুষ্টামি বেশি করে, সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যা বলায় পাকা ওস্তাদ।
তবে আজ পড়তে গিয়ে কোনো কথা বলেনি, এই প্রথম সিনিয়রদের সাথে পড়ছে তাই আর কথা বলা হয়নি তবে পড়া শেষ করে বের হয়ে সিনিয়র আপু সুমির সাথে রেজাল্ট নিয়ে কথা বলতে বলতে বাড়ি যাচ্ছিলো।
পেছন থেকে অচেনা অজানা একটা সিনিয়র ভাইয়া বলে উঠলেন রেজাল্ট কি ছিলো তোমার । এটা কোনো কথা, মানুষ প্রথমে নাম ধাম কাম জিজ্ঞাসা করে, এতো সোজা ফলাফলে চলে গেছে, গেছে তো গেছে আমার মেইন জায়গাতে গেছে।
পরের দিন সকালে রেডি হয়ে মিহি চললো সকালের ব্যাচ পড়তে, সেই খানেও কিছু উটকো ঝামেলা আছে, মিহির ২টা বেষ্ট ফ্রেন্ড আছে, একটা আকাশের একটা পাতালের আর মিহি ওদের মাঝখানে বাতাস হয়ে ভেসে বেড়ায়। না পারে আকাশের কথা শুনতে না পারে পাতালের কথা শুনতে, মাঝে মাঝে মিহির প্রচন্ড রাগ হয় এদের উপর, মনে হয় লাত্থি মেরে উগান্ডা পাঠায় দিতে।
বেশি বোঝারটার নাম রুহি আর মোটে না বোঝার টার নাম পূর্ণা।
পড়া শেষ করে তিন চন্ডী গেলো কলেজে,কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে আবার পড়া আছে, পড়া যেমন তেমন আজ যদি জিজ্ঞাসা করে রেজাল্টের কথা তাহলে কি হবে। চট করে মাথায় একটা আইডিয়া উঁকি দিলো। ৪.০৫ কে বানায় দিলো ৪.৫০ , তাও কম কম লাগলো, কিন্তু সমস্যা নেই মিহির কাছে এই অনেক।
