Cherreads

অন্ধকারের রাজা Part 1

Bikram_Sardar_2631
7
chs / week
The average realized release rate over the past 30 days is 7 chs / week.
--
NOT RATINGS
66
Views
VIEW MORE

Chapter 1 - অন্ধকারের রাজা Part 1

এক দরিদ্র ছেলের ভয়ঙ্কর ডাকাত হয়ে ওঠার কাহিনী (Part 1)

গ্রামের নাম ছিল শালবন। চারদিকে জঙ্গল, মাঝখানে ছোট্ট কুঁড়েঘর আর দারিদ্র্যের গন্ধ। সেই গ্রামেই জন্ম হয়েছিল রাহুলের।

রাহুল জন্ম থেকেই দরিদ্র। বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। দুবেলা খাবার জোটানোই ছিল তাদের কাছে যুদ্ধের মতো।

রাহুল ছোটবেলা থেকেই অন্যরকম ছিল। চোখে ছিল এক অদ্ভুত আগুন। যখন অন্য বাচ্চারা খেলত, সে বসে থাকত আর চুপচাপ মানুষদের দেখত—কেউ হাসছে, কেউ ঠকাচ্ছে, কেউ কাঁদছে।

একদিন রাতে, যখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর, তখনই তার জীবনটা বদলে গেল।

সেদিন গ্রামের জমিদারের লোকেরা তার বাবাকে মারতে মারতে প্রায় মেরে ফেলে। কারণ? সামান্য ঋণ শোধ করতে পারেনি।

রাহুল সেই দৃশ্য নিজের চোখে দেখেছিল।

তার বাবার মুখে তখন শুধু একটা কথা—

"আমি চোর না... আমি শুধু গরিব..."

কিন্তু কেউ শুনল না।

সেই রাতেই রাহুলের ভিতরে কিছু একটা ভেঙে গেল।

প্রথম অন্ধকারের শুরু

কয়েকদিন পর তার বাবা মারা যায়। মা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরে খাবার নেই।

রাহুল তখন ১০ বছরের এক ছেলে… কিন্তু পরিস্থিতি তাকে দ্রুত বড় করে দিল।

সে প্রথম চুরি করল ১১ বছর বয়সে।

গ্রামের এক দোকান থেকে সে চুরি করেছিল এক প্যাকেট বিস্কুট আর কিছু টাকা। ধরা পড়ার ভয় ছিল, কিন্তু তার চোখে তখন আর ভয় ছিল না।

সেদিন সে প্রথম বুঝল—

"চুরি করলে পেট ভরে… সৎ থাকলে মরে যেতে হয়।"

ছোট চোর থেকে বড় অপরাধী

সময় গড়াল। রাহুল বড় হতে লাগল। ১৪ বছর বয়সে সে হয়ে গেল গ্রামের সবচেয়ে চালাক চোর।

সে একা কাজ করত না। কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে একটা ছোট দল বানিয়ে ফেলল।

রাতে তারা বাড়িতে ঢুকে টাকা, গয়না চুরি করত। কেউ টেরও পেত না।

কিন্তু একদিন ভুল হয়ে গেল।

এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ তাদের দেখে ফেলেন। অন্যরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল, কিন্তু রাহুল দাঁড়িয়ে রইল।

বৃদ্ধ চিৎকার করতে যাচ্ছিলেন।

রাহুল তখন প্রথমবার একটা ভয়ঙ্কর কাজ করল…

সে বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। বৃদ্ধ মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে যায়।

সেদিন প্রথমবার রাহুল বুঝল—

"আমি এখন আর শুধু চোর না… আমি বিপজ্জনক।"

শহরে পা রাখা

১৮ বছর বয়সে রাহুল গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসে।

শহর—যেখানে টাকা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই।

প্রথম কয়েক মাস সে খুব কষ্টে কাটায়। কিন্তু তার মাথা খুব ঠান্ডা আর হিসাবি ছিল।

সে লক্ষ্য করল—শহরের বড় বড় ডাকাতরা কিভাবে কাজ করে।

ব্যাংক লুট, গয়না দোকান ডাকাতি—সব কিছু সে ধীরে ধীরে শিখে নেয়।

একদিন সে একটা বড় গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে।

গ্যাং লিডার ছিল খুব নিষ্ঠুর। নাম ছিল "কালা শের"।

কালা শের প্রথম দিনই রাহুলকে বলেছিল—

"এই লাইনে থাকতে হলে ভয়কে মেরে ফেলতে হয়।"

রাহুল শান্তভাবে বলেছিল—

"ভয় তো অনেক আগেই মরে গেছে।"

প্রথম বড় ডাকাতি

গ্যাংয়ের সাথে রাহুল প্রথম বড় ডাকাতি করে এক জুয়েলারি দোকানে।

সবকিছু প্ল্যান মতো হচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ পুলিশ এসে যায়।

গোলাগুলি শুরু হয়।

সবার মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু রাহুল ঠান্ডা মাথায় প্ল্যান বদলায়।

সে গ্যাংকে নিরাপদে বের করে আনে।

সেদিন থেকেই কালা শের বুঝে যায়—

"এই ছেলেটা আলাদা।"

বিশ্বাসঘাতকতা

কিন্তু এই দুনিয়ায় বিশ্বাস বলে কিছু নেই।

একদিন কালা শের নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে রাহুলের নাম বলে দেয়।

পুলিশ রাহুলকে ধরার জন্য চারদিকে খোঁজ শুরু করে।

রাহুল এটা জানতে পেরে এক রাতেই সিদ্ধান্ত নেয়—

"এবার আমি নিজের রাজা হবো।"

এক নতুন গ্যাংয়ের জন্ম

রাহুল নিজের গ্যাং তৈরি করে।

তার নিয়ম ছিল তিনটা—

বিশ্বাসঘাতকতা করলে মৃত্যু

গরিবদের কাছ থেকে কিছু নেওয়া যাবে না

ভয় তৈরি করতে হবে, কিন্তু বোকামি করা যাবে না

ধীরে ধীরে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।

লোকেরা তাকে ডাকতে শুরু করে—

"অন্ধকারের রাজা"

ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা

রাহুল আর শুধু ডাকাত ছিল না।

সে হয়ে উঠেছিল এক ছায়া।

পুলিশ তাকে ধরতে পারত না। কেউ তার মুখ ভালো করে দেখেনি।

সে রাতের অন্ধকারে আসত, সব নিয়ে চলে যেত।

কিন্তু একটা জিনিস সে কখনো ভুলেনি—

তার বাবার মৃত্যু।

যখনই সে কোনো ধনী, অন্যায়কারী লোকের বাড়ি লুট করত, তার চোখে ভেসে উঠত সেই রাত।

মানসিক পরিবর্তন

রাহুল ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল।

তার ভিতরে দুইটা মানুষ তৈরি হচ্ছিল—

একজন: যে গরিবদের সাহায্য করতে চায়

আরেকজন: যে ভয় আর রক্তের রাজত্ব চায়

কখনো সে গরিবদের টাকা দিয়ে সাহায্য করত, আবার কখনো নিষ্ঠুরভাবে কাউকে মেরে ফেলত।

সে নিজেও বুঝতে পারছিল না—

সে নায়ক, না খলনায়ক।