#পর্বসংখ্যা১১
#হ্রদয়ামিলন
#Shavakhan
এয়ারপোর্টের প্রাইভেট টার্মিনাল আজ একটু ব্যস্ত। কারণ শুধু আরজে একাই নয় তার সাথে পুরো শুটিং টিম আছে। স্টাইলিস্ট, মেকআপ আর্টিস্ট, ডিরেক্টর, সাউন্ডম্যান, ক্যামেরাম্যান সবাই ব্যস্ত নিজের নিজের কাজে। পুরো শুটিং টিমের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রাইভেট জেট। কিন্তু এত সবকিছুর মাঝেও আরজের মনে বেঁধে আছে এক ঝাঁক অস্থিরতা। হঠাৎ তার বুকের ভেতর একটা অজানা টান উঠলো যেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে ফেলছে। এমন একটা অনুভূতি হচ্ছে তার যা শব্দে বোঝানো যাচ্ছে না। চোখের নিচের শিরা গুলো টানটান হয়ে ওঠে, শ্বাসের ভিতরে অস্বস্তির গুমোট। হাতে বিলাসবহুল ঘড়ির কাঁটা সামনে এগোচ্ছে, তবুও মন থমকে আছে একই জায়গায়। সে চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠলো সানার ওই দিনের অবাধ্য মুখখানা। কই এর আগেও তো সে অনেকবার গিয়েছিল। কোনদিনও এমন মনে হয়নি, তাহলে আজ কেন মনে হচ্ছে সে অতি শীঘ্রই কাছের কাউকে হারাতে চলছে।
সবকিছু রেডি, ডিরেক্টর আরজের কাছে আসলো,
-"আরজে এবার আমাদের যাওয়া উচিত"
ডিরেক্টরের কথা আরজের শ্রবনইন্দ্রিয় হতেই সে উঠে দাঁড়ায়। মনের অস্থিরতাকে ঠেলে ডিরেক্টরের সাথে পা বাড়ায়। কয়েক কদম এগোতেই হঠাৎ সে থেমে যায়। ডিরেক্টর আকাশ তার দিকে তাকাতেই আরজে তরিঘড়ি করে বলে উঠলো,
-"আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে, আমি আসছি"
ডিরেক্টর কিছু বলবে তার আগেই আরজে কাঁচের দরজা ঠেলে বেরিয়ে পড়ে। চারপাশের সকল স্টাফরা চোখ বড় বড় করে দেখছে।
আরজে সোজা বেরিয়ে আসে প্রাইভেট টার্মিনাল থেকে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তার কালো গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।এয়ারপোর্ট থেকে আরজের গুলশানের ফ্ল্যাটে আসতে আধ ঘন্টা লাগলেও আরজে মাত্র বারো কি তেরো মিনিটেই হাই স্পিডে গাড়ি ছুটিয়ে চলে আসে। রিয়ানা তাকে বলেছে সানা জাওয়ান ম্যানশন থেকে চলে এসেছে।
_________________
সানা নিজের রুমে নিজেকে রেডি করে নিয়ে মাত্র সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। এমন সময় দরজা ঠেলে কেউ প্রবেশ করল। সানা চোখ তুলে তাকিয়েই হতবাক অপ্রত্যাশিত কাউকে দেখে 'রানভীর জাওয়ান'। সানা চোখ দুটো বড়সড় করে ভাবছে 'এই লোকের তো এয়ারপোর্টে থাকার কথা এখানে কেন?'
রানভীর মাত্রই দরজা খুলতেই সামনের দৃশ্যে তার চোখ আটকে গেল। নীল চুড়িদার পরা, কোমরের নিচ পর্যন্ত চুল গুলো পনিটেইল করে বেঁধে রাখা এক রমণীতে। আরজে তাকিয়ে থাকে নিঃশ্বাসহীন বিষ্ময়ে। মনে মনে ভাবছে 'সানা তো এখানেই আছে, তাহলে আমার এমন কেন মনে হয়েছে। হয়তো আমি বেশি ভাবছি। আর ও কোথায় বা যাবে'। আরজে এক পা এগিয়ে থেমে যায়। চোখের ভেতরে তার অনুভূতি জমে থাকে- অস্থিরতা, ভয় আর তীব্র স্বস্তি মিলেমিশে এক অদ্ভুত গভীরতা তৈরি করেছে। সানার দিকে তাকিয়ে তার বুক কেঁপে ওঠে 'এই মেয়েটা, মিনিট কয়েকের মধ্যেই তার ফ্লাইট , শুটিং টিম, সময়সূচী সব ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। তার কণ্ঠ ভাঙ্গা নিচু আর কাঁপা স্বরে বের হয়,
-"সানা"
সানার নিজের ও আরজেকে কেমন অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আরজের চুল একদম উসকোখুসকো, পরনের পোশাক অনেকটা এলোমেলো, চোখ গুলো কেমন নির্জীব ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আরজে কে সে সবসময় ফর্মাল গেটআপেই দেখেছে। তাহলে আজ কী হলো। সে নিজের ভ্রু গুছিয়ে জবাব দেয়,
-"কিছু বলবেন মিস্টার?"
সানার কণ্ঠ তার কানে আসতেই একমুহূর্তে আরজে আবার তার চিরচেনা রূপে ফিরে আসে।'ইস কি করতে যাচ্ছিল সে' আরজে কোন কথাই খুজে পাচ্ছে না, কী বলবে সে? কেন এসেছে? আরজে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
-"রিয়ানা তোমাকে কার্ড দিয়েছে?"
সানার কণ্ঠে শান্ত উত্তর,
-"হ্যা, কেন?"
-"ওহ.... এটাই জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম আমি। বাই, টেক কেয়ার।"
এই বলে আরজে একরকম পালিয়ে যায়। সে নিজেই বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হচ্ছে।
ইশ সে যদি বুঝতে পারত সে সত্যিই সানাকে হারিয়ে ফেলতে চলছে, তাহলে হয়তো তার কথোপকথন অন্য রকম হতো। নিজের কাছে পড়ে থাকা অযত্নের জিনিসটা, অমূল্য হয়ে ওঠে হারানোর পর।
সানা বিমূর্ত হয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে 'এটা কি হলো? একটা কার্ডের কথা জিজ্ঞেস করতে ছুটে এলো। নাকি এ আবার ডেট এক্সপায়ার ওয়ালা বাংলা মাল খেয়েছে?" সানার কিছু মনে পড়তেই তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। নিচে এসপি, রানভীর যদি তাকে দেখে চিনে ফেলে। সে হাত উপরের দিকে তুলে বলে,
-"হে উপরওয়ালা ইচ বার কি লিয়ে বাচা দিজে....."
________________
সানার ভয়ই সত্যি হলো। এসপি মাত্র গাড়ি নিয়ে পার্কিংলটে এসেছে। সানার জন্য গাড়ির ভিতর বসে আছে। এমন সময় আরজে তাড়াহুড়ো করে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু সামনে নজরে আসে এসপির মুখখানা। এসপি এখনো লক্ষ্য করেনি। তৎক্ষণাৎ আরজের ওই দিনের কথা মনে পড়ে যায়। সে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে এসপির গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। এসপি বসে বসে ভিডিও গেম খেলছিল, এমন সময় তার লুকিং গ্লাসে টোকা পড়ে। সে না দেখেই খুলে দিল ভেবেছে সানা এসেছে। নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,
-"পেস্ট্রি ওই দিক দিয়ে আয়,"
এই বলে চোখ ওঠাতেই দেখে আরজে দাঁড়িয়ে আছে চোখ মুখ শক্ত করে। এসপির মনে হল সে স্বপ্ন দেখছে। আরজে এখানে কোথা থেকে আসবে। এর তো এয়ারপোর্টে থাকার কথা। তখনই এসপির কানে এলো একটা গম্ভীর ও কঠোরতা মাখা স্বর,
-"তুমি তো ওই দিন রেস্টুরেন্টে ছিলে তাই না?"
এসপি নিজের ভাব পরিবর্তন করে চোখে মুখে উচ্ছ্বাস নিয়ে এলো। সে তার হাতটা বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডশেইকের জন্য। মুখে বলতে থাকলো,
-"হোয়াট আ সারপ্রাইজ! বিগ ফ্যান ব্রো"
আরজে নিজের হাত তো বাড়ালোই না বরং মুখের ভাব একই রেখে জিজ্ঞেস করলো,
-"তুমি এখানে কি করছ?"
এসপি নিজের হাত গুটিয়ে নিল। সে কিছুটা অপমানিত বোধ করল।
-"ও আমি..... আমি এখানে ফ্ল্যাট দেখতে এসেছি?"
-"কিন্তু এই প্লটে তো কোন ফ্ল্যাট খালি নেই"
এসপি নিজের জিভে কামড় বসালো কি বলতে কি বলে ফেলেছে,
-"ও.... তাহলে মনে হয় ভুল এড্রেসে চলে....."
আরজে তার কথা কেটে প্রশ্ন ছুড়ল,
-"সানাকে জানো?"
এসপি ভাবছে ঐদিন দেখে ফেলে নিতো, কিন্তু মুখের ভাব অন্যরকম,
-"সানা!... কে সানা?....
হঠাৎ আরজে এসপির ডেনিম জ্যাকেটের কলার ধরে টান দিয়ে মাথাটা লুকিং গ্লাস দিয়ে একটু বাইরে নিয়ে আসলো। এসপি এমন আকস্মিক আক্রমণে কিছুটা হকচকিয়ে গেল। সে এটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। আরজে চোখ গরম করে হিসহিসিয়ে বললো,
-"যদি ওটা সানা হয়, তাহলে তুমি নেক্সট টাইম দাঁড়ানোর অবস্থাতেই থাকবে না, পালানো তো দূর।"
কথা শেষ আরজে এসপিকে একপ্রকার ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এসপি ঠাস করে সিটে ছিটকে পড়ল। আরজে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। এইমূহুর্তে তার হাতে সময় নেই, নাহলে এই ছেলের ভালো মত ক্লাস নিতো। ওই দিকে সবাই আরজের জন্য বসে আছে।
এসপি নিজের কলার টা ঠিক করে লুকিং গ্লাস দিয়ে আরজের দিকে গালি ছুড়ে।
-"শালা এক নাম্বারের জওরা। কটকটি তোর সঠিক নামটাই দিয়েছে। তোকে তো আমি আমার লাইফেও পেস্ট্রি কে দেব না।"
সানা এতক্ষণ ধরে সিঁড়ির দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে এদের কাণ্ডকারখানা দেখছিল। সে একটু আগেই এসেছে, এদের দুজনকে দেখে এগিয়ে আসেনি। আরজে বেরুতেই সে তাড়াতাড়ি এসপির গাড়িতে উঠে গেল। এসপি তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
-"ওই আরজে তো দুবাই থাকার কথা, এখানে কি ভাবে টপকালো?"
সানা তার দিকে বিরক্তিসূচক দৃষ্টি ফেলে শুধলো,
-"ছাড় না এসব, বাংলা মাল খেয়ে এসেছে"
এসপি গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল,
-"আমার তো মনে হয় লালন ফকিরের গাঞ্জা খেয়ে এসেছে"
_________________
সারাদিন সানা ক্লাসে ব্যস্ত ছিল। বিকেলে আসার সময় এসপিকে বলে সে পার্লারে যাবে, নিজের গেটআপ চেঞ্জ করতে। কিন্তু এসপি কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না, সে একপায়ে দাঁড়ানো 'সে কিছুতেই যাবে না'। তাকে এক প্রকার ব্ল্যাকমেইল করেই সানা টেনেহিচড়ে নিয়ে এসেছে গুলশানের 'সোয়াই বিউটি কেয়ার স্পা এন্ড সেলুন' এ। এসপি নিজের মুখটাকে বেজার করে রেখেছে। সে এইসব লেডিস কাজে নাই অথচ এই মেয়েটা তার একটা কথা শুনলে তো।
হঠাৎ তার চোখ সামনে পড়তেই সে তাড়াতাড়ি সানার ওড়না দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলে। সানার পিছন দিকে ওড়নাতে টান পড়াতেই সে পিছন ফিরে দেখলো, এসপি ওড়নার পিছনের দিকটা মাথায় মুখ ঢেকে দিয়ে বসে আছে। সানা কপালে ভাঁজ ফেলে জিজ্ঞেস করল,
-"কিরে কি হলো? তুই আমার ওড়না পরেছিস কেন?"
এসপির কণ্ঠ নিচু, ফিসফিস করে বলল,
-"আরে তোর পাশে যে চুল কাটাচ্ছেনা..."
-"হ্যা"
-"আর যে চুল কাটছে, দুটোর সাথেই আমার টাইম পাস চলছে অনলাইনে। এখন যদি দুটোই আমাকে দেখে ফেলে তাহলে একজন আরেকজনের চুল না কেটে চুল ছিড়েই ফেলবে।"
সনার মুখের হাসি চওড়া হলো। তার পেট ফেটে হাসি আসলো। তার মাথায় এসপিকে কাবু করার একটা বুদ্ধি আসলো। সে এসপির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলল,
-"আর যদি দুজন মিলে তোর চুল ছিড়ে ফেলে?
তোকে পাবলিকের সামনে কেলানি দেয়।"
এসপির চোখ বড় বড় হয়ে গেল,
-"কি বলছিস কি? এমনটা তো আমি ভেবে দেখিনি"
-"ভেবে দেখ, আমি এখনই ওদের বলতে যাচ্ছি"
-"প্লিজ এমনটা করিস না।এবারের মতন বাঁচিয়ে দে। নেক্সটাইম আমি আর তোর কথা শুনে কোথাও যাবো না।"
-" আচ্ছা বাচাবো, কোন সমস্যা নেই কিন্তু ফ্রিতে যে কিছুই মিলে না"
এই বলে সানা নিজের মোবাইলে বিকাশ খুলে নিজের স্ক্যানার এসপির দিকে এগিয়ে দিল। এসপি মুহূর্তেই বুঝে ফেললো সানা কি চায়। সে মনে মনে সানাকে হাজার টা কথা শুনালো। একেতো এই মেয়ের জন্য ফেঁসেছে, তারউপর তার সাথেই ব্যাবসা করছে 'ধান্দাবাজ মহিলা'। সে সানার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
-"তুই বন্ধু না শত্রু ইয়ার"
সানার নির্ভীক জবাব,
-"আমি সুযোগ সন্ধানী। তুই কি দিবি কিনা? ভেবে দেখ? না হলে ওদেরকে আমি এখনই ডাক দিচ্ছি।"
এই বলে সে পাশের জনের দিকে তাকিয়ে বলল,
-"এক্সকিউজ মি"
এসপির চেহারা ভয়ে মিইয়ে গেল। সে এই মহিলা সমাবেশের হাতে মার খেতে চায় না। মনে মনে তওবা করে ফেলল, 'লাইফে আর সানার কথা শুনে অন্য কোথাও না হোক, অন্তত পার্লারে আসবেনা সে' তাড়াতাড়ি সানাকে বলতে শুরু করলো,
-" কটকটির বাচ্চা আমি তোকে পাঠাচ্ছি তো"
সানা মনে মনে হাসতে হাসতে শেষ। আজকে এর আচ্ছা মত ধোলাই হবে যদি মেয়েদের বলে দেয়। পাশে থাকা মহিলাটি ততক্ষণে চলে এসেছে। সানার দিকে তাকিয়ে বলল,
-" জি ম্যাম বলুন"
-"অন্য কাউকে ডেকে দিবেন প্লিজ?"
মেয়েটি হাসিমুখে বলল,
-"অবশ্যই আপনার সাথের জন কি চুল কাটাবে?"
সানা নিজের হাসি ভিতরে চেপে এসপির দিকে তাকিয়ে বলল,
-"না এ নিজের নাক কাটাবে"
এসপি সানার ওড়না টা হাত দিয়ে মাথার এদিকে চেপে ধরে বসে আছে। মহিলাটি বুঝতে পারেনি। সে সানাকে ওকে ম্যাম বলে চলে গিয়েছে।
এসপি সানার মোবাইলে একহাজার টাকা পাঠাতেই সানা বলে উঠলো,
-"পাঁচ পাঠা"
-"তুই কি আমাকে ফকির বানাতে চাস?"
-"তুই পাঠাবি নাকি আমি ওনাকে ডাক দিব?"
-"তোর মত বন্ধু শুধু আমারই হোক আর কারো না হোক"
এই বলে সে আরো হাজার চারেক টাকা পাঠালো।সানা হেসে কুটিকুটি, আজ আচ্ছা মত জব্দ করেছে এই বিটকেলকে।
_______________
সকালবেলা সানার ঘুম ভাঙে মোবাইলের টুংটাং ম্যাসেজের শব্দে। সে হামি তুলে দুই মিনিট বসে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে মোবাইলটা হাতে নেয়। এই সাত সকালে আবার কে মেসেজ পাঠালো। কিন্তু মোবাইলে চোখ পড়তেই স্ক্রিনে থাকা ছবিটি দেখেই তার চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো। সে কিছু না ভেবেই মোবাইলটা বিছানার একপাশে ছুড়ে ফেলে দিলো। দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বসে থাকলো। তারপর ধীরে ধীরে বললো,
-"আজ থেকে সব কিছুর সমাপ্তি হলো"
-চলবে...
