#পর্বসংখ্যা১৬
#হ্রদয়ামিলন
#Shavakhan
প্রত্যুষের সোনালি রোদখানা যখন মরুভূমির কিনার ছুয়ে শহরকে স্পর্শ করছিল, তখন বুর্জ খলিফার আশি তলার ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে আছে এক মানব। চোখে মুখের তীব্র দহনের চাপ। তার সামনে বিস্তৃত কাচের দেওয়াল জোড়া জানালা যেখান দিয়ে পুরো দুবাই শহরকে সে পর্যবেক্ষণ করতে ব্যস্ত। আকাশটা তখন ঠিক নীল নয়, গোলাপি নয়—দুই রঙের মাঝখানে থমকে থাকা এক কোমল সোনালি আভা, যা মরুভূমির বালুকণার মতো ঝিলমিল করতে করতে দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
শহরের নীচে তখনও নীরবতা—রাস্তাগুলো ফাঁকা, টাওয়ারগুলোর ছায়া দীর্ঘ, প্রসারিত, যেন রাতের শেষ স্পর্শটুকু এখনও ধরে রেখেছে। দূরে সমুদ্রের ওপর প্রথম সূর্যালোক নরম রুপালি রেখা এঁকে যায়, যা দেখা যায় শুধু এতো উঁচুতে দাঁড়ানো মানুষদের ভাগ্যে।
আরজে দু'হাতে জানালার ঠান্ডা কাচ স্পর্শ করে। কাচের ওপারে থাকা সূর্য ধীরে ধীরে উঁকি দিলে, উঁচু অট্টালিকাগুলোর কাচে আলো আটকে ছোট ছোট আগুনের মতো ঝলসে ওঠে—আরজের চোখে পড়ে সেই দ্যুতিময় দৃশ্য। তার মনে হয়, যেন দুবাইকে প্রতিদিন নতুন করে গড়ে তোলার জন্য সূর্য নিজেই এসে রঙ মাখিয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু এই রঙ আরজেকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যর্থ। তার বুকের ভেতর ঝড় উঠেছে,কারণ সানা।
তার মনে সেই দৃশ্যটা বারবার ফিরে আসছে।
যা আরজের কাছে বজ্রপাতের মতো মনে হচ্ছে। সে এইসব কিছু না চাওয়া সত্ত্বেও তার মন যেন বার বার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে।
________________
সকালে চৌধুরী বাড়ির সবাই নাস্তার টেবিলে বসে। এসপির মামি মিসেস লিপি ফারুকী সার্ভেন্টদের সাথে মিলে সব কিছু এগিয়ে নিয়ে আসছে। এসপি বসার পরেই সানিতা ধপ করে তার পাশের চেয়ারখানা দখল করে নিল। এসপি একবার সানিতার দিকে তাকায়, যে অলরেডি তার দিকে তাকিয়ে আছে। এসপি কিছু না বলে সামনে তাকাতেই তার চোখে পড়ে কিভাবে খুশদিল ফারুকী তার দিকে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে। এসপি একটা শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে ভাবে, 'কি আশ্চর্য! এমন মনে হচ্ছে আমি ওনার মেয়েকে বলেছি.... আয় মা আমার কোলে বস। মেয়ের সাথে পারে না, শুধু আমার সাথে।'
এসপি চোখ নামিয়ে নে তখনই তার কানে আসে খুশদিলের কাঠকাঠ কন্ঠ,
-"তুমি আওয়ারা গিরি ছাড়বে কবে?"
এসপি চোখ তুলে তাকায় সে ভাবছে, তাকে না কাকে বলছে পর মুহুর্তে মাথায় এলো 'সে ছাড়া তো আর কেউ আওয়ারা গিরি করে না' মনে মনে জবাবের প্রস্তুতি নিয়ে মুখ ফুটে কিছু বলার আগেই খুশদিল ফারুকী আবার বলেন,
-"তোমার নিজের ভাইয়ের থেকে কিছু শিখা উচিত। সে কিভাবে কোম্পানি ও ক্যারিয়ার একসাথে হ্যান্ডেল করছে।"
সারহাদ এবার চোখ তুলে তাকায় এসপির দিকে। ভাইয়ের চুপসে যাওয়া মুখের থেকে চোখ সরিয়ে মামার দিকে তাকায়,
-"মামা ছেড়ে দাও না ও এখনো বাচ্চা ছেলে....."
তার মামা তাকে থামিয়ে গর্জে ওঠে,
-"বাচ্চা.....! আরো পাঁচ বছর আগে বুড়ো হয়ে বসে আছে ও"
এসপি লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায়, অপমান!...এত বড় অপমান, তার মত কচি খোকাকে বুড়াে বলছে? নাহ আর চুপ থাকলে, আজ উনি বুড়ো বলছেন কাল না জানি অন্য কি বলে বসবেন। এসপি দাঁড়াতেই খুশদিল তার দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলেন,
-"খাওয়া বাদ দিয়ে দাঁড়ালে কেন? কিছু বলবে?
ব্যাস এসপি যা বলবে ভেবেছিল তাও ভুলে গেছে। মানুষ এত জোরে ধমক দেয় নাকি। তাও তার মতো একটা মাসুম বাচ্চার সাথে। সে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল,
-"কাঠের চেয়ার, বেশ শক্ত.... বসে বসে কোমর ব্যাথা হয়ে গিয়েছে। তাই এক্সারসাইজ করছিলাম আর কি।"
পাশে বসা সানিতা ফিক্ করে হেসে দিল। খুশদিল তার কথা কানে না তোলার মতো ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলেন,
-"তুমি কাল থেকে অফিস জয়েন করবে"
এসপির মাথায় এবার যেন আকাশ ভেঙ্গে পরল। কিন্তু মুখ দিয়ে টুশব্দ বের হলো না। সবাই তার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। এসপি খুশদিলের দিকে ছলছল নয়নে তাকায় যে এই মুহূর্তে তাকে চোখ দিয়ে শাসাচ্ছে। সে একটা কেবলা কান্ত হাসি দিয়ে বলে,
-"আপনার আদেশ শিরোধার্য"
তিনি সারহাদ কে বলেন,
-"সারহাদ ও কিছুই জানে না। ওকে ছোটখাটো কোন পোস্টে ঢুকাবে। যাতে আগে ও এক্সপেরিয়েন্স অর্জন করতে পারে"
পাশ থেকে সানিতা তার কানে ফিসফিস করে বলে,
-"আমি তোমাকে কফি দেই?"
সাথে সাথে ভেসে এলো এসপির কাট কাট জবাব,
-"আমার মা, আমাকে বিষ দে। তোদের বাপ মেয়েকে আমি বিশ্বাস করিনা। দুজনেই আমার পেছনে বাঁশ লাগাতে ব্যস্ত।
___________________
আজকে সারহাদ অফিসে নাই। কোন কাজের জন্য সে সকালে শহরের বাইরে গিয়েছে। অফিসের সকলের সাথে সানার অলরেডি ভাব জমে গেছে। সানা কাজ করছে আর একটু পর পর মোবাইল চেক করছে। ভাবছে 'আজকে ওই জাওরার কি হলো! কোন খবর নেই।।। ধুর... কচুমার্কা... আমিইবা ভাবছি কেন? মনে হচ্ছে কারো সাথে ঝগড়া করলে একটু শান্তি পেতাম। কি এক অবস্থা ঝগড়া করার জন্য আজকাল আমি ঐ কালনাগিনী কে একটু বেশিই মিস করছি।"
_________________
দুবাইয়ের মরুভূমির হাওয়া আজ নরম, উষ্ণ। বাতাস হালকা ধুলো উড়িয়ে সুরের সাথে নাচতে থাকা কোন রহস্যের মত ভেসে বেড়াচ্ছে। আজ রাত আরজের। কনসার্টের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। 'দুবাই ডিজাইন ডিস্ট্রিক্ট' 'ডি থ্রিতে' বিশাল খোলা মাঠে এখনই মানুষের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। অর্গানাইজেশনের কর্মচারীরা চারদিকে ব্যস্ত, সাথে সেট করা হচ্ছে কড়া সিকিউরিটি। রেডি করা হয়েছে মাঠের মাঝখানে বিশাল এক স্টেজ। এমনভাবে লাইটিং করা হচ্ছে যেন মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে কোন জ্বলন্ত নক্ষত্র।
____________________
গাড়িতে সানা আর এসপি বসে। এসপি সানাকে অনেকক্ষণ বুঝিয়েছে, ড্রাইভ করা সানাকে সাজে না। কিন্তু এই মেয়ে বুঝতে নারাজ, মানে তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেই। সানা এক পায়ে খাড়া, শিখব মানে শিখবই, না হয় তোকে শাহাবাগীদের হাতে ছেড়ে আসবো। এসপি হার মেনে নিয়ে চারটা সিটবেল্ট লাগাচ্ছে। এগুলো অতিরিক্ত, আজকে সকালেই লাগিয়ে এনেছে। জানত এই মেয়ে মানবে না। সানা তাকে এতো গুলো সিটবেল্ট লাগাতে দেখে বলে,
-"তুই এতগুলো সিটবেল্ট লাগাচ্ছিস কেন?"
এসপির মেজাজ গরম,
-"চুপ কর, সেফটি ফাস্ট। আমি জানি আমি যমের বাড়ি সফরে যাচ্ছি।"
সানা একটা মুচকি কেটে সামনে তাকায়। মনে মনে ভাবছে 'লাইফে সে যা দেখেছে একবারে না হোক দ্বিতীয়বার তো শিখেই গিয়েছে'
আটটা সিটবেল্ট বাঁধার পর এসপি সানার দিকে তাকায়। আরো দুইটা লাগাতে চেয়েছে কিন্তু আর লাগানোর জায়গা নেই।
-"শোন এ বি সি"
সানা বিরক্তি সূচক দৃষ্টিতে তাকায়,
-"তোর আমাকে মূর্খ মনে হয়। আমি এ বি সি জানি"
-"আবে গাধী নিচে দেখ, পেডেলে দেখ, ওখানে এ বি সি'
সানা পেডেলের দিকে তাকিয়ে বলে,
-"আচ্ছা তো কোম্পানির মালিক এ বি সি জানে না"
এসপির রাগ সপ্তকাশে, তারপরও নিজেকে সংবরণ করে বলল,
-"এ মানে এক্সিলারেটর, বি মানে ব্রেক, সি মানে কন্ট্রোলার"
সানা পর পর বলে,
-"দেখনা আমরা ছোটবেলায় এ মানে অ্যাপল, বি মানে বল, সি মানে ক্যাট পরে এসেছি। আর এখন এগুলো এক্সিলারেটর, ব্রেক আর কন্ট্রোলার হয়ে গিয়েছে। ব্যাস কুচ পাল মে জামানা বাদাল গায়ি, লোগ বাদাল গায়ি, অর গাড়ি বি বাদাল গায়ি।"
এসপি ফোস্ করে হাওয়াতে নিঃশ্বাস ছাড়লো। করুন সুরে বলে ওঠে,
-"আমার আম্মা এখনো সময় আছে। আমিহীন আমার গার্লফ্রেন্ড গুলো কিডনিব্যাথায় মারা যাবে। বোঝার চেষ্টা কর, অন্তত পক্ষে বিয়েটা করতে দে। বউটাকে দেখতে দেয়। তারপর শান্তিতে মরতে পারবো।"
-"আরে আমি মজা করছিলাম একটু। আর তুই বিয়ে করার পর বউয়ের আঁচল ছেড়ে আর বেরোবি না। আমি তোকে ভালো করে জানি।"
এসপি শেষবারের মতো সানাকে বুঝানোর পর্ব চুকিয়ে বাধ্য হয়ে সানাকে সবকিছু ঠিকমতো বুঝিয়ে দেয়। গাড়ি চলতে আরম্ভ করে। এসপি ডিরেকশান দিচ্ছে ডানে নেয়, বামে নেয়, ব্রেকে চাপ, এক্সিলারেটরে পা রাখ, গিয়ার চেঞ্জ কর। আর সানা উল্টোপাল্টা করেই যাচ্ছে যার ফলে গত এক ঘন্টা ধরে গাড়ি একবার এদিক তো ওদিক, কখনো থামে তো কখনো স্পিডে ছুটে চলছে। এভাবে দেড় ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎই গাড়ি দ্রুত বেগে চলা শুরু করেছে। এসপি চিৎকার দিয়ে উঠে,
-"কটকটি ব্রেকে চাপ লাগা"
সানা এক্সেলারেটর চেপে বলছে,
-"চাপ দিয়েছি"
এসপি তাকিয়ে দেখে সানা এক্সেলারেটরে চেপে আছে,
-"আবে এক্সেলেটর থেকে পা সরিয়ে বেকে চাপ দেয়এএএএএএ"
-"কিন্তু কোনটাই তো কাজ করছে না"
-"তাহলে কন্ট্রোলারে চাপ দেয়এএএএএএ"
-"আরে এটাও চলছে না"
এসপি করুন স্বরে বলে,
-"কি চলছে আমার মা সেটা বললললল?"
-শু...শুধু গাড়ি চলছে আর স্টিয়ারিং ঘুরছে"
এসপি কড়া কণ্ঠে আদেশ ছুড়ে,
-"তুই স্টিয়ারিং থেকে হাত সরাবি নাহহহহ। আজরাইল পিছনের সিটে বসে আছে, তুই হাত সরাবি আর আমরা উপরওয়ালার কাছেএএ...
হে মাবুদ, আজ আমার সব পাপের কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে, একদিন নানী আমাকে দশ টাকা দিয়েছিল ফকিরকে দান করতে। কিন্তু আমার হাতে দশ টাকা দেখে এই কটকটির কথাতে আমরা ফকিরের হক মেরে দুজনে খেয়ে ফেলেছি। মাবুদ আমি কিন্তু নির্দোষ সব দোষ এই মেয়ের"
সানা স্টেয়ারিং ছেড়ে তেড়ে যায় এসপির দিকে,
-"এ..... এ... তুই সব দোষ আমার উপর দিচ্ছিস কেন?"
এসপির চোখ বড় বড় হয়ে যায়। চিৎকার করে বলে,
-"তুই স্টিয়ারিং ধরররররর...."
সানা তড়িঘড়ি করে ধরে, এসপি কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বলে,
-"শেষবারের মতো মাফ চাওয়ার সুযোগ দে আমার মা। লাইফের সবথেকে বড় পাপ তো আমি তোকে পেস্টি বানিয়ে করেছি।"
এই বলে সামনে তাকাতেই দেখে একটা বড় ট্রাক তাদের দিকে ধেয়ে আসছে। তা দেখে এসপির চোখ বড় হয়ে যায়,
-"আব্বে ডানে গুরাহহহহ...ইন্না-লিল্লাহহহহহ....."
________________
রাতের দুবাই আজ অদ্ভুত রকমের শান্ত। কিন্তু সেই শান্তির মাঝে মানুষের ঢেউ জমে উঠেছে 'ডি তিন' এর বিশাল খোলা মাঠে। বিশাল স্টেজে চারপাশে হাজারো মানুষদের হতে আলো জ্বালা মোবাইল, প্লেকার্ড, লাইটস্টিক। মাঠ জোরে তার নাম নিয়ে কথার ঝড়। সামনের সারিতে তরুণীরা ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে। সবাই অধীর অপেক্ষায়। হঠাৎ নিবে গেল সকল আলো, মাঠে এক মুহূর্তে নীরবতা নেমে এলো। সে নীরবতা এত গভীর যেন পুরো দুবাই এক নিঃশ্বাসে আটকে আছে।
তারপর এক ঝলক আলোর বিস্ফোরণ। একটা সোনালী আলো স্ট্রেজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরজের উপর পড়ে, সবাই একসাথে চিৎকার করে ওঠে।
একটা ঢেউ, একটা বিস্ফোরণ, একটা উন্মাদনা।
চারদিকে আলোর রং বদলায় নীল, লাল, বেগুনি গোলাপি। হঠাৎ মনে হয় আকাশের তারারা নেমে এসে মানুষের কাঁধে কাঁধে বসে আছে। দর্শক সারিতে নরম একটা ঢেউ ওঠে। মুখে মুখে কলরব "আরজে, আরজে, আরজে,"
হঠাৎই আরজের কন্ঠ আসে মাইক্রোফোনে,
-"Dubai, Are you ready"
চারদিকে আলোর ঝিলমিল, ধোঁয়ার কুন্ডলী উঠে আসে। আরজে গভীর শ্বাস টেনে নেয়। তার চোখ ঝলসে ওঠে, ভেতরের রাগ জেদ চেপে বেরিয়ে আসে কাঙ্খিত সুর,
"জানিনা কেন হ্যালো হ্যালো হয়ে আছি উড়ে গেছে ঘুম,
জানিনা কেন তাহলে গোলে হয়ে গোলে ফিউজ হয়ে দুম,
জানিনা কেন গায়ে ব্যথা পায়ে ব্যথা মাথা ভন ভন,
জানিনা কেন ধরা দিতে দিতে পাখি হয়ে গেছে গন্,
ও.....ও....
কবে, কবে কবে গো,
হবে, হবে হবে গো,
আমায় দেখা দেবে গো বলোনিতো।
(তোমার দেখা নাইকো বন্ধু, তোমার দেখা নাই) [৪]
________________
আজকে ঢাকার বিমানবন্দরের চেহারা অন্যরকম। চারদিকে মানুষের ঢেউ। অপেক্ষা আরজের। বিমানের দরজা খুলতেই ঢাকার আর্দ্র, উষ্ণ বাতাসের একটা ঢেউ আরজের মুখে এসে আঘাত করল।
কিন্তু আজ তার গা শিউরে উঠলো অন্য কারণে।বাইরে কাঁচের দেয়ালের ওপারে।মানুষের সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছে পুরো এয়ারপোর্ট।
মেজাজ খারাপ থাকা সত্ত্বেও চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে এক মুহূর্তের জন্য তার হৃদয় থমকে দাঁড়ায়।
-চলবে.....
