#পর্বসংখ্যা১৭
#হ্রদয়ামিলন
#Shavakhan
রাতের গভীরতা ঢাকা শহরকে যখন আঁকড়ে ধরে ঠিক তখন শহর জুড়ে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। সেই নীরবতা,শান্ত ও আলো অন্ধকারের রহস্য ভেদ করে ছুটে চলছে দুইজন, রিয়ানা জাওয়ান আর তার প্রিয় রাত সঙ্গী আগুনের মতো লাল 'ডুকাটি প্যানিগালে ভি–ফোর আর' বাইক।
একাকীত্ব ভরা জীবনে যখনি অপসর পাবে তখনি ছুটে যায় বাইক নিয়ে। আর তার জন্য রিয়ানার রাত সবচেয়ে বেশি পছন্দের। ঢাকা শহরের ফাঁকা রাস্তাগুলো তখন রিয়ানের কাছে কবিতার মতো লাগে। নীল-কমলা স্ট্রিট লাইটের স্রোত তার হেলমেটের ভিতরে লেগে তৈরি করে এক ধরনের কুয়াশামাখা আলোছায়ার নৃত্য।
তার গ্লাভস-পরা হাতে থ্রটল পুরো তুলে দিলে
ইঞ্জিন যেন বজ্রপাতের মতো ফেটে ওঠে, আলো আঁধারের টানেলে ডুবে যায় পুরো রাস্তা।
ঢাকার আকাশে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। রিয়ানার বাইক ফ্লাইওভারের গা ঘেঁষে ছুটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
হাওয়া তার জ্যাকেটের প্রান্ত উড়িয়ে দিচ্ছে।
হঠাৎই একটি গা ছমছমে অনুভূতি তার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে আসে। রিয়ানা বুঝে ওঠার আগেই
ডান পাশের অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে আরেকটি বাইক। কালো ম্যাট ফিনিশ,
শিকারির মতো ভয়ংকর 'কাওয়াসাকি নিনজা এইচ টু আর'।দূরে ধূলোর রেখা কেটে এগিয়ে আসছে সেই ছায়ামূর্তি বাইকটি। রিয়ানার খুব কাছে এসে পড়ে। রিয়ানা প্রথমে পাত্তা দিল না ভেবেছে হয়তো অন্য কেউ হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে বাইকটি তার পাশ ঘেঁষে তার গতিতে চলা শুরু করেছে। সে নিজের গতি কমিয়ে এনে পাশে ফিরে তাকায়। হঠাৎ পাশে থাকা বাইকটি তার দিকে ফিরে একটু সামনের চাকাটা ঘুরায়। সাথে সাথে রিয়ানা নিজের গতি পরিবর্তনের জন্য ব্রেক ধরতে গিয়ে বাইক সমেত সে নিচে পড়ে যায়। গতি কম থাকায় অতটা ব্যথা পায়নি। সে চিৎকার দিয়ে ওঠে,
-"Hey, are you crazy man?"
অন্য বাইকটি একটু সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে নিজের কালো হেলমেটের সামনের কাচটা তুলে রিয়ানার দিকে তাকায় চোখাচোখি হয় রিয়ানার একজোড়া ঠাণ্ডা, বরফের মতো নীল চোখ,'মাস্টার'
যে অন্ধকার ভেদ করে সরাসরি রিয়ানের দিকে তাকায়। হেলমেটের নিচে তার ঠোঁটে ছুরি-ধার হাসি ফুটে ওঠে। একপলক, পরমুহূর্তেই তীব্র গতিতে বাইকটি রিয়ানার দৃষ্টিগোচর হয়ে যায়।
________________
শহরের বুক চিরে এগিয়ে চলছে এসপির লাল টয়োটা। একটু আগে মরতে মরতে বেঁচে এসেছে। এসপি পাক্কা পাঁচ মিনিট পর বলছে,
-"কটকটি আমি বেঁচে আছি না উপরে চলে গেছি"
সানার এইদিকে স্টেয়ারিং সামলাতেই তার হালাত খারাপ,
-"জানিনা বিটকেলের বাচ্চা শুধু তোর আওয়াজ আসছে"
এসপির হুঁশ এলো নিজের চোখে মুখে স্পর্শ করে বললো,
-"আমি সত্যি বলছি, আমার আত্মাটা নাকের ডগায় চলে এসেছে। উপরওয়ালাআআআ.... আমার পাপ কি বেশি ছিল যে তুমি একে পাঠালে শাস্তি দিতে। আর মানুষ পান নাই বারবার, বারবার শুধু আমি কেন?"
সানা তার দিকে তাকায় সাহসী দৃষ্টিতে, কিন্তু ভিতরে ভয়ের স্পষ্ট চাপ,
-"দেখ তুই অনেক বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিস। লাইফে প্রবলেম ক্রিয়েট করতে হলে আমার মতো কনফিডেন্ট হতে হবে"
এসপি লাগানোর জন্য আরো দুইটা সিট বেল্ট খুজছে। এখন তার মনে হচ্ছে ৫০ টা লাগালে ভালো হতো। কিন্তু সানার কথা কানে আসতেই চোখ উল্টে তাকায়,
-"তোর হাত পা কাঁপছে"
-"আব্বে কনফিডেন্স হাত পায় থাকে না। মুখে থাকে, মুখ দেখ।"
-"তোর কনফিডেন্স দেখে আমার কলিজা ব্যথা করছে"
সানা আওয়াজের জন্য শুনতে পাইনি। শুধু ব্যথা করছে এতটুকু শুনতে পেয়েছে। তাই সে বলে ওঠে,
-"সামনে হসপিটাল দাঁড়াবো"
-"তুই দাঁড়াতে পারবি?"
-"আ...আমি দাঁড়াতে পারবো কিন্তু গাড়ি থামবে না"
এসপি কাঁদো কাঁদো হয় বলে,
-"তুই দাঁড়ালে আজরাইল দাঁড়াবে আর জীবন থেমে যাবে। তুই চালিয়ে যাহহহহ। গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে এভাবেই থেমে যাবে।"
বনানীর কাছে চেক পোস্টে দাঁড়িয়ে আছেন দুজন কম বয়স্ক ট্রাফিক পুলিশ। এদের দেখে এসপির মনে একটু আশার আলো জেগে ওঠেছে। সে এই প্রথম পুলিশ দেখে খুশি হয়েছে। এসপি সানার দিকে উৎসুব দৃষ্টিতে তাকায়,
-"পেস্ট্রি দেখ সামনে পুলিশ"
-"দেই উড়িয়েএএএ..."
ট্রাফিক পুলিশ শিহাব মাত্রই একটা বাইকের কাগজপত্র চেক করছিলেন। এমন সময় একটা লাল গাড়ি ঠিক উনার পাশ কাটিয়ে হাঁওয়ার বেগে চলে যায়। উনার মনে হলো মৃত্যু তার পাশ কাটিয়ে গিয়েছে। উনি ঐদিকে তাকিয়ে গালি ছুড়লেন। ভেবেছেন কেউ হয়তো মাল খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি দৌড়ে গিয়ে সামনের চেকপোষ্টে কল করেন। যেখানে পুলিশ থানার বড় কর্মকর্তা 'আমানত দুলাল' রয়েছে। তাড়াতাড়ি নাম্বার টাইপ করে কানে তোলে শিহাব,
-"স্যার, স্যার.. আপনার দিকে..."
ওই পাশ থেকে তার কথা কেটে ভেসে এলো ঠান্ডা নিরেট কন্ঠস্বর,
-"শিহাব... প্রথমে সালাম দিতে হয়।"
আমানত দুলাল বড়ই শিষ্টাচার সম্পন্ন ব্যক্তি। উনার কাছে আদব, কায়দা, শিষ্টাচার সব থেকে আগে। তার মতে, সকল সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। তিনি অপরাধীদের সাথেও যথেষ্ট সুন্দর আচরণে বিশ্বাসী। রেগে যাওয়া তার কর্ম নয়। তারপরও শিহাব তাড়াতাড়ি বলে ওঠে,
-"আসসালামু আলাইকুম স্যার, আপনার দিকে.."
আবার তার কথা কেটে ওই পাশ থেকে আসে,
-"শিহাব পুরোটা দেওয়া সুন্নত"
শিহাব নিজের কান থেকে মোবাইলটা একটু দূরে নিয়ে যায়। চোখ মুখ কুঁচকে বলে ওঠে,
-"শা*লা বুইড়া, জীবন বাঁচান ফরজ আর এই মুহূর্তে এ পইরা রইছে সুন্নত নিয়া"
আবার কানে নিয়ে বলে,
-"আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, স্যার.....
ওই পাশ থেকে আমানত বলেন,
-"এবার ঠিক আছে, আমরা সবসময় ছোট জিনিস ছোট বলে ভুল করে ফেলি। আমা..."
এবার শিহাব চিৎকার করে গর্জে ওঠে,
-"স্যার, যম আপনার দিকে আসছেএএএএ..."
ভদ্রলোক বুঝলেন না তার কথা। কপালে ভাঁজ ফেলে আবার শুধালেন,
-"যম!!! উনি আজকাল রাস্তাতেও চলাফেরা করে নাকি! তোমার কোথাও ভুল...."
তাকে বাক্য সম্পন্ন করতে না দিয়েই শিহাব আবার বাক্য ছুড়ে,
-"আরেএএএ আপনার দিকে ধেয়ে আসছে একটা গা..."
ভদ্রলোক খুবই বিরক্ত তিনি শিহাবকে বুঝানোর ভঙ্গিতে আবার বলেন,
-"দেখো শিহাব, তুমি বেশি রেগে যাচ্ছ, এটা আমাদের জন্য খুবই খারাপ। সকল অবস্থায় আমাদের শা..."
উনার বাক্য সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই উনার কানে আসে হাবিলদারের আওয়াজ,
-"স্যারররর.... সরে দাঁড়ান..."
ভদ্রলোক বুঝতে পারেনি কখন কথা বলতে বলতে রাস্তার মাঝে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি হাবিলদারের হাঁক শুনে পিছনে তাকাতেই দেখে একটা লাল গাড়ি তীব্র স্পিডে তার দিকে ধেয়ে আসছে। উনি কোনমতে সরে পাশে পড়ে যান। হাতের মোবাইল খানা পড়ে যায় রাস্তায়। বাতাসে ভাসছে এসপির চিৎকার,
-"বাঁচান বাঁচান বাঁচান"
হাওয়ার বেগে দৃষ্টি সীমা অতিক্রম করল গাড়িটা। আমানত দুলাল বুকে হাত দিয়ে উঠে বসেন। আর একটু হলেই উনার আত্মা ফুস হয়ে উড়ে যেত। উনার ৩০ বছরের কর্মজীবনে আজ তার রাগ চূড়ান্ত। রেগে কোন বুলি আওড়াবেন তার আগেই পড়ে থাকা মুঠোফোনে আওয়াজ আসলো,
-"স্যারররর আপনি কিন্তু রেগে যাবেন না। আমাদের মাথা ঠান্ডা..."
ভদ্রলোক আর কিছু শুনলেন না। ফোনটা হাতে তুলে ঠাস কেটে দিলেন। হাবিলদার এগিয়ে এসে তার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়েন,
-"স্যার আপনি ঠিক আছেন?"
উনি হাতে ভর দিয়ে ওঠে দাঁড়ালেন। ওনার কন্ঠে এখনো ভয় আর রাগ মিশানো,
-"আহা আমি ঠিক আছি, তবে এটা কি ছিল?"
-"স্যার আমি শিওর না"
-"কিন্তু আমি শিওর, এই গাড়ি যমের বাড়ি যাচ্ছে"
-"স্যার গাড়িতে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে ছিল। ছেলেটা বাঁচান বলে চিৎকার করছে। মনে হচ্ছে মেয়েটা ছেলেটাকে কিডন্যাপ করেছে।"
উনি বুকে হাত দিয়ে বলেন,
-"কি জমানা এসেছে, আগে ছেলেরা মেয়েদের কিডন্যাপ করতো। এখন রাত দুপুরে মেয়েরা ছেলেদের কিডন্যাপ করে।"
-"স্যার আমরা কি ওদের পিছু নেব"
আমানত দুলালের সহজ সরল স্বীকারোক্তি,
-"যমের বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা আছে তোমার? আমি আরো কদিন পৃথিবীতে বাঁচতে চাই। ছেড়ে দাও ওদের।
গাড়ির ফুয়েল শেষ হয়েছে রাতের দেড়টার দিকে। গাড়ি থামাতে এসপির রুহে যেন পানি আসে। বের হয়ে অলরেডি দুবার বমি করে ফেলেছে। এসপির অবস্থায় সানার থেকেও খারাপ। সানা আজ বাড়ি যায়নি। এসপির সাথে চৌধুরী মহলে চলে গিয়েছে, সানিতার সাথে দেখা করতে। সিদ্ধান্ত নিয়েছে সানা, আজ অফিস যাবে না। সারাদিন ঘুমাবে তার জন্য এসপিকে বলেও দিয়েছে।
_______________
আজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আবহাওয়া উষ্ণ। এয়ারপোর্টের চারপাশে আরজের ভক্তদের ছড়াছড়ি। হ্যাজব্যান্ড-ডোরের স্বয়ংক্রিয় কাঁচ খুলে যেতেই যেন পুরো পরিবেশ এক অদৃশ্য বিদ্যুত্দ্যোতের মধ্যে স্থির হয়ে গেল। সাদা টিউবলাইটের নিষ্ঠুর আলো আর শত শত ফ্ল্যাশের কাঁপুনি মিলেমিশে এয়ারপোর্টের বিশাল হলটিকে রূপ দিল এক অনিয়ন্ত্রিত উল্লাসের মঞ্চে।
তার চলার পথের দু'পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে ছিল বিস্ময়ের দীপ্তি, অকারণ ভক্তির উষ্ণতা আর এক ধরনের উত্তেজিত কম্পন।যেন তারা কোনো সাধারণ মানুষ নয়,মঞ্চের আলো ভেদ করে উঠে আসা এক জীবন্ত কিংবদন্তিকেই প্রত্যক্ষ করছে।
সিকিউরিটি সার্কেল তার চারপাশে শক্ত করে তৈরি হলো, তার সাথেই রয়েছে তার দুই বিশ্বস্ত গার্ড কাইলিন ও জ্যাক। কিন্তু ভক্তদের উন্মাদনার ঢেউ তাতে এতটুকুও স্তিমিত হলো না।
আরজে একে একে সবার দিকে হাত তুলে
"হাই", "হ্যালো", "থ্যাংক ইউ"
বলে যাচ্ছিল। গ্যালারির সুউচ্চ কাঁচের দেয়াল ভক্তদের চিৎকার আবার প্রতিধ্বনিত করে
দ্বিগুণ করে তুলছিল।
কিন্তু আরজের মুখে অভ্যাসগত হাসি থাকলেও,
তার চোখের গভীরে লুকিয়ে অন্যরকম দীর্ঘশ্বাস,
এক অব্যাখ্যাত অন্তর্গত শূন্যতা,যা হাজার মানুষের উল্লাসেও পূর্ণ হচ্ছিল না।
অবশেষে সিকিউরিটির হাতছানিতে সে এগিয়ে গেল বাইরে। যেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিল কালো রঙের উঁচু, ঝকঝকে স্টার কাস্ট শুটিং ভ্যান।
দরজাটা খোলা ছিল। আরজে শেষবারের মতো ভিড়ের দিকে ছোট্ট হাত নেড়ে ওঠে পরে ভ্যানে।
ভ্যানের সিঁড়ি ধরে ওপরে ওঠার মুহূর্তে
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ তার পেছনে এখনো ধাওয়া করছিল,কিন্তু দরজা বন্ধ হয়ে যেতে যেতে ধীরে ধীরে সেই উন্মাদ আলোকচ্ছটার কোলাহল নিঃশব্দে মিলিয়ে গেল। ভ্যানের দরজা নিঃশব্দে বন্ধ হতেই বাইরের উন্মত্ত জনসমুদ্রের ধ্বনি যেন হঠাৎ ভূপাতিত হয়ে গেল।
ভ্যানের ভেতরটা বিস্ময়করভাবে নরম অন্ধকারে মোড়ানো এক ধরনের শান্ত, প্রগাঢ় নিস্তব্ধতা।
সিলভার-গ্রে আলোয় ভ্যানের অভ্যন্তর যেন আধুনিক কোনো চলমান রশ্মি। দেয়ালের ধাতব পালিশ, আয়নার শীতল দ্যুতি, আর আলোর ফোসফরেসেন্ট আভা মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অন্তর্মুখী পরিবেশ।
নরম লেদারের সিটে ডুবে গেলো আরজে। এক কোণে তার জন্য সাজানো পানির বোতল,কাগজে মোড়া স্ক্রিপ্ট, ভ্যানিটির টেবিলে পরিপাটি করে রাখা মেকআপ ব্রাশ। ভ্যানের আলো নরম হয়ে আসতেই,আরজের চোখের সামনে উঠে এলো এক মুখ 'সানা'।
সাথে তার চোখে ভেসে ওঠলো সেই দৃশ্যখানা। মনে হলো বুকের গহীনে যেন কেউ ধীরে ধীরে ছুরি টেনে নিচ্ছে। ধীরে ধীরে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো। ভ্যান ছুটে চলছে আরজের গুলশানের ফ্ল্যাটের দিকে।
_______________
সানা ফ্ল্যাটে আসে রাত নয়টার দিকে। মিসেস রাহেলা তাকে না খেয়ে আসতে দেয়নি। ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতেই দেখে নিগূঢ় অন্ধকার। তার পা কিছুর সাথে বাধা পরে। সে পাত্তা না দিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো। রুমে প্রবেশ করতেই তাকে কেউ একটানে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে, তার দুই হাত ঐ ব্যক্তির একহাতে মুঠোবন্দি।
সে কিছু বলার আগেই অন্য হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। সানার কানে আসে একটা হীমশীতল, রুক্ষ পুরুষালী হাস্কিস্বর,
-"Welcome home, Wifey."
-চলবে.....
