#পর্বসংখ্যা১৮
#হ্রদয়ামিলন
#Shavakhan
চৌধুরী মহলের পরিবেশ হাস্যজ্জল হলেও একজনের মনে অমাবশ্যার ঘনঘটা। সে আর কেউ না এসপি। কারণ একটু আগেও তাকে ভালো করে ওয়ার্নিং দিয়ে ক্লাস নিয়েছেন খুশদিল ফারুকী। যেন কাল সকালে তিনি এসপিকে অফিসে পান। প্রয়োজন হলে ঝাড়ুদার হবে তারপরও তাকে দেখা চাই। এসপি মনে মনে হাজারটা গালি বর্ষণ করলেও তার মুখ দিয়ে হ্যা ছাড়া আর একটা সরিষার দানাও বের হলো না। এক প্রকার রাগ করেই সারহাদের রুমের দিকে যাচ্ছে। সারহাদ বহুদিন পর আজ বাড়িতে। এসপি অনুমতির তোয়াক্কা না করেই সারহাদের কক্ষে প্রবেশ করে। সারহাদ কারো উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই হাতের ল্যাপটপ খানা ঠাস করে বন্ধ করে দিল, যেন তাতে বিশেষ কিছু ছিল। কিন্তু এসপির লক্ষ্য সেই দিকে নেই।
-"ব্রো আমার দুটো আবদার আছে।"
সারহাদ তার ভাইকে অসম্ভব ভালোবাসে। আজ পর্যন্ত এসপির কোন আবদার বা ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেনি। সে ঠান্ডা শীতল কন্ঠে প্রতুত্ত্যর করে,
-"হুম, ওকে...."
এসপি জানতো তার ভাই এটাই বলবে। তাই ভনিতা ছাড়াই বলা শুরু করলো,
-"ব্রোহ ফার্স্ট আমার আরেকটা গাড়ি লাগবে, সেকেন্ড কাল আমি অফিস জয়েন করব।"
দ্বিতীয় বাক্য খানা শ্রবণ হতেই সারহাদ অবিশ্বাস্য চোখে তাকায়। যেন পৃথিবীর কোনো অদ্ভুত কথা শুনেছে,
-"হঠাৎ এত পরিবর্তন, মামা মেয়ে দিবে বলেছে?"
-"তাহলে আর যেতামই না, আরে তুমি পুরোটা তো শুনবে"
সারহাদ হাত নেড়ে বলতে বুঝাল,
-"শোনো আমি অফিস জয়েন করব তবে সানার এসিস্ট্যান্ট হিসেবে"
সারহাদ ভ্রু কুচকে তাকালো,
-"কিন্তু সিমরান তো নিউকামার। ওর....."
এসপি ওর কথা থামিয়ে বলে ওঠে,
-"আরে ব্রোহ আমি তো নামের অফিস জয়েন করব"
সারহাদ মুহূর্তে বুঝে পেললো ভাইয়ের কান্ডকারখানা।
-"ওকে"
এসপির চোখে মুখে উপচে পড়া খুশি,
-"থ্যাংকস ব্রোহ, তোমার লাইফের সব উইশ পূরণ হোক।"
এই বলে এসপি চলে যায়। সারহাদ নিজের ল্যাপটপের স্ক্রিনে দৃষ্টি রেখে নেশালো কন্ঠে বিড়বিড় করে বলে ওঠে,
-"সব নয়, জাস্ট একটা"
___________________
পুরো রুম জোরে অন্ধকারের হাতছানি। তার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মানব মানবী। শুধুমাত্র আসছে তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ। বেলকনির মৃদু আলো এসে আরজের মুখের উপরে পড়তেই আরজের রক্ত চক্ষুর সাথে চোখাচোখি হয় সানার ভয়ার্ত চোখের। সানা প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিল, কে হতে পারে? আবার ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি না তো? আরজেকে দেখে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। কিন্তু ফালানোর ফুরসত পেল কই, আরজে এমন ভাবে তার মুখ চেপে ধরেছে যেন তার শ্বাস আটকে আসার জোগাড়। আরজের গরম নিঃশ্বাস সারার মুখে আঁচড়ে পড়ছে। আরজে নিজেকে যথেষ্ট সংবরণ করে নিজের রুক্ষ পুরুষালী স্বরে বাক্য ছুড়ল,
-"তোমার সাহস কিভাবে হলো, বাড়িতে হাজবেন্ড রেখে রেস্টুরেন্টে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে যাওয়া। হাউ ডেয়ার ইউ মিসেস্ জাওয়ান"
ওপাশের রমনীর অবস্থা খারাপ। সানা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে হাত ছুটিয়ে আরজে কে ধাক্কা দিল। সামনের বলিষ্ঠ মানব বোধহয় একটু নড়লো। আরজে সানার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিল। সানা হাপড়ের মতো শ্বাস টেনে নিল ভিতরে। একটু পর আরজের চোখে নির্ভীক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,
-"মিস্টার জাওয়ান, আপনার কোন অধিকার নেই আমার ক্যারেক্টারের ওপর আঙ্গুল তোলার"
আরজের পছন্দ হলো না কথাখানা।আরজে আরেকটু এগিয়ে এসে সানার মুখে পড়া বেবি হেয়ার গুলোকে ধীর আঙ্গুলে কানের পিছনে গুঁজে বাক্য ছুড়ে সানার দিকে,
-"তুমি আমাকে অধিকার শিখাচ্ছ?"
সানার নিজের কন্ঠ একই রেখে বললো,
-"হ্যা শিখাচ্ছি, আগে নিজের কুকর্ম গুলোকে দেখুন"
আরজের কপালে কয়েকটা ভাজ পরল,
-"কুকর্ম! লাইক"
সানা ব্যাগ থেকে মোবাইল নিয়ে মাস্টারের পাঠানো ঐ দিনের ছবিগুলো বের করে আরজের সামনে ধরে। আরজে এগুলো দেখে ভ্রু কুচকে এলো। সে সানার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে দেখল। মুহূর্তেই তার চোখে ধরা পড়ে যায়। সে সানার দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে ওঠে,
-"এগুলো এ আই"
সানা যেন আকাশ থেকে পড়ল। আরজের হাত থেকে ছোঁ মেরে মোবাইলটা নিয়ে ভালো করে দেখছে। তার কন্ঠে বিস্ময়,
-"এ...আই.."
ভেসে এলো আরজের দাঁতে দাঁত পিসে বলা বাক্য, -"ওই ছেলেটা কে ছিল?"
সানা তার কথা কেটে বলে ওঠে,
-"মানলাম এগুলো এই আই, তাহলে ওই দিন আমি হসপিটালে নিজ চোখে দেখেছি। ওটা কি ছিল?"
বারবার সানার এড়িয়ে যাওয়া আরজের মনে রাগ আরোও একধাপ বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু সে কিছুতেই সানার সামনে নিজের কন্ট্রোল হারাতে চায় না। আবার নিজেকে আটকাতেও পারছে না। আরজে বড় একটা শ্বাস ভিতরে টেনে নিয়ে বলল,
-'লিসেন ওয়াইফি সব জায়গার আমিটা, আমি হব না"
সানা বুঝলো না তার ঘুরানো পেচানো কথার মানে। সে জিজ্ঞেসু দৃষ্টিতে তাকায় আরজের দিকে,
-"মানে?"
আরজে দু কদম এগিয়ে আসলো সানার দিকে,
-"সব মানের মানে খুঁজতে নেই ওয়াইফি, তুমি যতটা মানে খুঁজবে ততটা অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাবে, আম গর্না আস্ক্ট ইউ লাস্ট টাইম...."
আরজের বাক্য সম্পন্ন হওয়ার আগেই সানা বলে উঠলো,
-"ফ্রেন্ড,,,হি ইজ মাই চাইল্ডহুড ফ্রেন্ড।"
ওই পাশ থেকে আসলো আরজের রুক্ষ তপ্ত কন্ঠস্বর,
-"আর ফ্রেন্ড রেস্টুরেন্টে বসে তোমাকে গার্লফ্রেন্ড বলেছিল কেন?"
সানা কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। আরজে ধীর কদমে তার দিকে এগিয়ে আসছে। সানা এক কদম দু কদম করে পিছিয়ে দেওয়ালে তার পিঠ ঠেকে যায়। আরজে তাদের মধ্যকার দূরত্ব মিটিয়ে সানার দুদিকে হাত রেখে রুক্ষ পুরুষালী কন্ঠে শুধালেন,
-"জাস্ট প্রে উইশ, তুমি সত্যি হও, আর ও শুধু ফ্রেন্ড হয়। নাহয় একটা হেডলাইন, একটা কিডন্যাপ, একটা খু*ন। আর তোমার সো কল্ড ফ্রেন্ড এর দ্য এন্ড।"
এবার সানার মনে একটু ভয়ে জমেছে। কারণ তার জন্য এসপির যদি কিছু হয়ে যায়। সে কিছু বলার জন্য চোখ তুলতেই নজরে আসে আরজে কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। আরজে নিজের মুখটাকে সানার দিকে নিয়ে আসছে একটু একটু করে, নজর তার অধরে। সানা তার মতলব বুঝার সাথে সাথেই তাকে দিল এক ধাক্কা। আরজে ঘোরে থাকায় হঠাৎ এমন ধাক্কায় কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। মুহূর্তে তার রাগটা মাথা ছড়া দিয়ে ওঠে। সানার রিজ্যাকসন একদম পছন্দ হয়নি তার। সে ত্রুোধে সানার পাশের দেওয়ালে পরপর কয়েকটা থাবা বসিয়ে দে। ইতিমধ্যে তার চোখ লাল হয়ে উঠেছে। সে নিশ্চিত, এখানে থাকলে সে সানাকেও আঘাত করে ফেলবে। আরজে নিজের চুল খামচে ধরে। নাহ এখানে থাকা যাবে না। আরজে সানার রুম থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ার আগে সানার কানে আসে আরজের রুক্ষ কণ্ঠ,
-"You already get in the darkness wifey"
_______________
সানা এখনো মূর্তিমান হয়ে দাঁড়িয়ে। সে আরজের চোখ মুখে এতটা হিংস্রতা কোনদিনও দেখেনি। নিচ থেকে কিছু আওয়াজ আসতেই তার ধ্যান ভাঙ্গে। সে একটা শুকনো ঢোক গিলে কক্ষের বাহিরে বেরিয়ে আসে। নিচের দিকে তাকাতেই তার চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম। পুরো লিভিং রুমের উপর দিয়ে মনে হচ্ছে ভূমিকম্প গিয়েছে। সানা এগিয়ে গিয়ে মেঘা কে জিজ্ঞেস করতেই মেগা জানায় আরজে বাড়িতে এসে সানাকে না পেয়ে এই সবকিছু ভাঙচুর করেছে। সানা কিছু না বলে উপরে গিয়ে এসপিকে কল করে।
_______________
-"কিহহহহ...."
সানা ভীষণ বিরক্ত এই ছেলেকে এই নিয়ে পাঁচবার বলে ফেলেছে। তারপরেও প্রতিবার বলছি কিহ কিহ কিহ?
-"আব্বে ওই জাওরা বলেছে তোকে খু*ন করবে।"
ওই পাশ থেকে আসে এসপির ব্যথিত কন্ঠস্বর,
-"কাল বউ আমায় গাড়ি দিয়ে উড়াতে চেয়েছে, আর আজ জামাই খুঁজছে খু*ন করতে। আমার জীবন কি বন্যার জলে ভেসে এসেছে নাকি?।"
-"আমি কি করবো বল?"
এসপি করুন স্বরে বলে ওঠে,
-"সত্যি করে বল, আমার পেছনে মধু আছে নাকি? না বল আমায়, তুই আর মামা কি কম ছিলি যে উপরওয়ালা আরেকটা কে আমার পিছনে লাগিয়ে দিয়েছে"
-"আচ্ছা তুই রেগে যাচ্ছিস কেন?"
ভেসে এলো এসপির চিবিয়ে চিবিয়ে বলা কণ্ঠস্বর,
-"বাহ কেউ আমায় খুন করতে চাইছে আর আমার খুশি হওয়া উচিত। নাহ আমার তো বরং এটা বলা উচিত, নেন ভাই এই ছুরি দিয়ে মারেন ব্যথা কম হবে।"
-"আচ্ছা জাস্ট টেক ইট ইজি....."
এসপি এবার গর্জে উঠলো,
-" আমার মা, বেঁচে থাকলে তবে তো ইজি ভাবে নেব"
________________
আরজের রুমের দরজা খুলতেই যেন এক দমকা অন্ধকার তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।মেঝের ওপর দীর্ঘদিন জমে থাকা নীরবতা যেন মুহূর্তেই ভেঙে চূর্ণ হলো,ঠিক যেভাবে তার বুকের ভেতরের সংযম ভেঙে গেল। আরজের চোখ দুটো লাল অগ্নিগোলকের মতো জ্বলে উঠল,মুখের পেশিগুলো শক্ত হয়ে আছে,চোয়াল বেয়ে নেমে আসছে রাগের অশ্লীল কম্পনের এমন এক তীব্রতা, যা মানুষকে মানুষ রাখে না হিংস্র জন্তুরূপে রূপান্তরিত করে।
হঠাৎই সে হাত বাড়িয়ে টেবিলের ওপরে থাকা
দামি ওয়াইনের বোতলটা তুলে আছড়ে দিল দেয়ালে।বোতলটা ভেঙে ছিটকে গেলো তারপর একের পর এক সাইড ল্যাম্প, কফি মগ, কাচের শো-পিস,পারফিউমের বোতল,সব কিছু সে ধরছে এবং ছুঁড়ে মারছে, মুহূর্তে ভেঙে যাচ্ছে, বিস্ফোরিত হচ্ছে,কিন্তু সে থামল না।বরং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠল,রক্তে ভেজা হাত দিয়ে সে আবার দেয়ালে ঘুষি মারল। আরজে ফোন হাতে নিয়ে আয়ানকে কল করে। ঐপাশের ব্যক্তি ফোন ওঠাতেই আরজে গর্জে ওঠে,
-"একটা ছেলের ব্যাপারে জানতে তোমার দুইদিন কেন লাগছে? আয়ান"
ওই পাশের ব্যক্তি কন্ঠে ভয় স্পষ্ট,
-"স্যার কেউ ওর আশে পাশে আছে যে ওকে প্রটেক্ট করছে। যার কারণে আমাদের লোকেরা তার কাছে পৌঁছাতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আর ও চৌধুরীদের ছেলে, 'সারফারাদ চৌধুরী'। ম্যাম সত্যি বলছিল, ওরা ছোটবেলাকার বন্ধু"
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে আয়ান থামে। আরজে এবার তপ্ত রুক্ষ কণ্ঠে বাক্য ছুড়লেন,
-"দ্যাটস নট ইনাফ ফর মি। আই ওয়ার্না টু নো এভরিথিং, ইডিয়েট"
এই বলেই নিজের হাতের ফোন খানা ছুড়ে ফেলে দিল। ওই পাশের ব্যক্তির কথা শোনার প্রয়োজন বোধও করল না। জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে, নিজের মাথা চেপে ধরে বসে পড়ে আরজে। কালকেই সোফিয়ার সাথে কথা বলে সানার ব্যাপারটা পাবলিক্যালি করে ফেলবে।
________________
এসপি সানার সাথে কথা বলে মাত্র নিচে এসেছে। হঠাৎ সানিতা তাকে পিছন থেকে ডেকে ওঠে,
-"ফারাদ ভাই"
এসপি পিছু ফিরে তাকায়,
-"কি?'
সানিতা একটু এগিয়ে আসে, ঠোঁটে তার মিষ্টি হাসির বাহার,
-"একচুয়ালি, আমি ফার্স্ট টাইম পায়েস বানিয়েছি"
সানিতা পায়েসের বাটিটা এসপির দিকে বাড়িয়ে দেয়। এসপি না চাওয়া সত্ত্বেও এক চামচ মুখে দিল। ব্যাস এক চামচ, না সে গিলতে পারছে, না ফেলতে পারছে। তার মনে হচ্ছে কেউ চিনি আর লবনের ফ্যাক্টরি ঢেলে দিয়েছে, এটা একদম 'আলট্রা প্রোম্যাক্স বিষ' টাইপের কিছু। কিন্তু চোখ তুলে তাকাতেই সানিতার উৎসুক দৃষ্টি দেখে, কেন জানি তার মেয়েটার মন ভাঙতে ইচ্ছে হলো না। এসপি বহু কষ্টে তা গলার নিচে ফেলে বলে,
-"গুড, ভেরি টেস্টি"
এইটুকু বলে সে এক নিঃশ্বাসে পুরো বাটি পায়েশ সাবাড় করে কোনোমতে। সানিতা মনে মনে ভীষণ খুশি,
-"আর একটু এনে...."
এসপি তার কথা থামিয়ে বলে ওঠে,
-"সানি, তুই বরং এক কাজ কর, পুরো পাতিল টা নিয়ে তোর বাপকে দিয়ে আয়। আফটার অল মেয়ের প্রথম রান্না বলে কথা।"
সানিতা আচ্ছা বলে চলে যায়। এসপির ঠোঁটে ক্রুর হাসি, বিড়বিড় করে আউড়ালো,
-"আজ ব্যাটা বুঝবে, কত ধানে কত চাল।"
এই বলে উপরে তাকাতেই চোখাচোখি হয় খুশদিলের আগুন ঝরা, খেয়ে ফেলা দৃষ্টির সাথে। এসপি একটা শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে ভাবছে,
'ব্যাস এটাই কম ছিল। ব্যাটা সিসিটিভির মত সারাক্ষণ আমার পিছনেই পড়ে থাকে।'
খুশদিল তাকে চোখ দিয়ে রুমের দিকে ইশারা করছে। মুহূর্তে এসপি তার ইশারার মানে বুঝতে পেড়েই মনে মনে পড়ে,
'লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতুম মিনাজ জোয়ালিমিন'
________________
সাতসকালে সানা নিচে আসতেই দেখে ঈশানী আসছে। সানা ঠোটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে দুদিকে হাত নাড়িয়ে বলে ওঠে,
-"ওয়েলকাম কালনাগিনী, ওয়েলকাম টু জয় বাংলা, আই মিন ব্ল্যাক স্পেস"
ঈশানী মুখ বাকিয়ে বলে ওঠে,
-"ইউ নো হোয়াট, আমি দূর থেকে দেখলাম একটা ডাইনি, আর কাছে এসে দেখি এটা তুই"
পরপর ভেসে আসে সানার কণ্ঠস্বর,
-"আমিও দূরররর... থেকে দেখলাম দরজা ঠেলে একটা কালসাপ আসছে। কাছে এসে দেখি, এ..মা এ তো কোন সাধারণ কালসাপ নয় লা, এত স্বয়ং কালনাগিনী।"
-চলবে...
